প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিরস্ত্র হওয়ার পরে কুর্দি যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তুরস্কের প্রস্তাবিত আইনের সমালোচনা করেছে নিষিদ্ধ কুর্দি সংগঠন পিকেকে। এই বিলটির বিষয়ে সোমবার তুরস্কের পার্লামেন্টে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পিকেকে তাদের বক্তব্যে সতর্ক করে বলেছে, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) নেতা আবদুল্লাহ ওকালানকে কারাগার থেকে মুক্তি না দেওয়া হলে প্রস্তাবিত আইনের নানা বিধান বাস্তবে ‘কার্যকর হবে না’।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত এই আইনে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে পিকেকের কয়েকজন সদস্যকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে উল্লেখ্য যে, এতে সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার কোনো বিধান রাখা হয়নি।
রোববার পিকেকে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই আইনে গুরুতর ভুল ও ঘাটতি রয়েছে। গণতন্ত্রায়ন এবং কুর্দি সমস্যা সমাধানের বিষয়ে দেওয়া সুপারিশগুলো এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’ পিকেকে নেতৃত্ব আরও বলেছে, বিলে শুধু নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ‘কুর্দি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তাদের ধারণা, এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে সমস্যা সমগ্রভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা এএনএফ এই বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে। এতে সাবেক পিকেকে যোদ্ধাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাদের বন্দি না করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তুরস্কের পার্লামেন্টে সোমবার যে বিলটি নিয়ে আলোচনা হতে যাচ্ছে।
গত বছর পিকেকে তাদের বিলুপ্তি ও নিরস্ত্র হওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘদিনের নেতা আবদুল্লাহ ওকালানের আহ্বানের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রোববার পিকেকে সতর্ক করে বলেছে, ‘আইনের অনেক বিধানই কার্যকর হবে না’, যদি ৭৭ বছর বয়সী ওকালানকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া না হয়। উল্লেখ্য, তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন।
২০২৪ সালের শেষ দিকে তুরস্কের সরকার শান্তি উদ্যোগ শুরু করার পর গত বছর ওকালান পিকেকেকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং কুর্দিপন্থি ডিইএম পার্টির সমর্থন পাওয়া প্রস্তাবিত বিলে কিছু অপরাধের জন্য ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য মামলা ও কারাদণ্ড স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নতুন কোনো অপরাধে যুক্ত না হলে তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত বাতিল এবং সাজা ভোগ করা হয়েছে বলে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। যদিও ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর কিছু অপরাধ এই সুবিধার আওতায় থাকবে না। সরকারপন্থি গণমাধ্যমগুলো যুক্তি দিয়েছে, এই বিধানটি ওকালানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, তিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
এদিকে রোববার কারাবন্দি কুর্দি নেতা সেলাহাত্তিন দেমিরতাশ প্রস্তাবিত বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ঐতিহাসিক এই শান্তি প্রচেষ্টায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হবে। তুরস্কের প্রধান কুর্দিপন্থি দলের সাবেক যুগ্ম চেয়ারম্যান দেমিরতাশ ২০১৬ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন।
তিনি বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানির পর এই আইন ‘আমাদের দেশ ও অঞ্চলের ভবিষ্যৎ আমূল বদলে দিতে পারে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন