প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আফ্রিকায় চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরিত্রিয়া প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার সঙ্গে সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইথিওপিয়া সরকার আদ্দিস আবাবায় নিযুক্ত ইরিত্রিয়ার রাষ্ট্রদূতসহ ১০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করার পাশাপাশি রাজধানী আসমারায় তাদের দূতাবাস বন্ধ করার সিদ্ধান্তের পর এই পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইরিত্রিয়া।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইরিত্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, ইথিওপিয়ার একতরফা ও শত্রুতামূলক আচরণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিকল্প তাদের কাছে আর ছিল না।
বহিস্কার ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
সংকটের সূচনা ঘটে যখন ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ জন এরিট্রীয় কূটনীতিককে 'পারসোনা নন গ্রাটা' (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়। ইথিওপিয়ার দাবি, এসব কূটনীতিক দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছিলেন।
অন্যদিকে, ইরিত্রিয়া সরকার ইথিওপিয়ার এই পদক্ষেপকে উসকানিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আসমারার অভিযোগ, লোহিত সাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে ইথিওপিয়াই মূলত অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং ইরিত্রিয়ার অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে।
মিসরীয় কূটনীতিককেও বহিষ্কার
এই সংকটের প্রভাব কেবল ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টিগ্রায় অঞ্চলের বিদ্রোহীদের সমর্থনের অভিযোগে ইথিওপিয়া সরকার একজন উচ্চপদস্থ মিসরীয় কূটনীতিককেও দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মিসরও কায়রোতে অবস্থানরত ইথিওপীয় দূতাবাসের এক কাউন্সিলরকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার করেছে।
আফ্রিকায় নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা
ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (TPLF)-সহ বিরোধী সশস্ত্র জোটের মধ্যে চলমান লড়াই দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলের প্রধান প্রশাসকের দাবি, এরিট্রীয় সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে বিদ্রোহী জোটে যোগ দিয়ে ইথিওপীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
২০২০-২০২২ সালের গৃহযুদ্ধের পর এটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা। দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ এবং লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ নিয়ে টানাটানির কারণে পুরো শিং আফ্রিকা (Horn of Africa) অঞ্চলে একটি নতুন ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকেই অবিলম্বে শান্তি আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন