প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তেহরান অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার নামে ইরানের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রতি আন্তরিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানে হামলার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার প্রশ্ন, আলোচনার কথা বলার পর হামলা চালানোকে কীভাবে সদিচ্ছা বলা যায়?
বাঘাই দাবি করেন, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্রের মালিক ছিল না এবং এমন অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনা করে পরমাণু চুক্তিতে সই করেছিল, কিন্তু তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে সরে যায়। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করা এবং ইরানে হামলার নিন্দা না করায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিরও সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে কাতারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিখোঁজ তিন ইরানি বৈমানিকের ভাগ্য সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য চায় তেহরান। তাদের মৃত্যুর প্রমাণ বা বিস্তারিত নথি না পাওয়া পর্যন্ত কাতারকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে মনে করে ইরান।
এদিকে, গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে রাশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। বাঘাই জানান, এ সফরে মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো এবং অন্যান্য বড় উৎপাদক দেশের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হবে।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ও ইরানে সামরিক হামলার হুমকি প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা কে বেশি অপরাধ করতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিরও সমালোচনা করেন।
এছাড়া, বিক্ষোভ মোকাবিলায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করার অভিযোগে ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। একই ধরনের আচরণের অভিযোগ তুলে তিনি ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইতালির সমালোচনা করেন।
পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইরাকের বিষয়ে বাঘাই সতর্ক করে বলেন, বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ দেশটির জনগণ ও ইরাক-ইরান সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক দেশের অস্থিতিশীলতা অন্য দেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। রিয়াদ ও সানার মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে তেহরান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তার মতে, সামরিক পদক্ষেপ সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল ব্যাহত হয়। গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ এবং জলপথটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও বাধার মুখে রয়েছে।
সূত্র: এইনি সাফাক
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন