প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এবং রাজধানীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগকে সহজতর করার উদ্দেশ্যে নির্মিত পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতল (এলিভেটেড) সড়ক আগামী ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৯৯ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি চলছে এবং এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।
প্রকল্পের সূত্রে জানা গেছে, মূল দ্বিতল সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। কাশীপুরে টোল প্লাজার সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার স্থাপন, র্যাম্পের রেলিং নির্মাণ এবং নিচতলার সড়কে অতিরিক্ত অ্যাসফল্টের প্রলেপ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ দিনরাত চলছে।
প্রকল্পের পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে সড়কটি উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। উদ্বোধনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেই ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সড়কটি চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় তলার সড়কে পিচ ঢালাইয়ের শেষ স্তর, রোড মার্কিং ও সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সড়কটি আলোকিত হবে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, পঞ্চবটি থেকে চরসৈয়দপুর পর্যন্ত মূল দ্বিতল সড়কটির দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার। এর সঙ্গে যানবাহন ওঠানামার জন্য প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক বা র্যাম্প রয়েছে। পঞ্চবটী মোড়ে তিনটি (এ, বি ও সি) এবং কাশীপুরে দুটি (ডি ও ই) র্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে।
সড়কটির ওপরের অংশে রোড মার্কিংয়ের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ দুই লেনের সড়ক ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রশস্ত হলেও এই দ্বিতল সড়কটি ১১ মিটার চওড়া। মূল লেনের পাশাপাশি মাঝখানে ডটেড লাইন দিয়ে প্রায় আড়াই মিটার অতিরিক্ত জায়গা রাখা হয়েছে। বিকল হওয়া গাড়ি নিরাপদে সরিয়ে রাখার জন্য এই অংশ ব্রেকডাউন লেন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
পঞ্চবটী প্রবেশমুখে কোনো টোল প্লাজা রাখা হয়নি। সব টোল প্লাজা কাশীপুরে স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে মোট ১০টি লেনের মাধ্যমে টোল আদায় করা হবে। এর মধ্যে ছয়টি লেন দিয়ে মূল এলিভেটেড সড়কে দ্রুত চলাচল করা যাবে। বাকি চারটি লেনের মধ্যে দুটি দিয়ে যানবাহন কাশীপুরে নামবে এবং অন্য দুটি দিয়ে সড়কে উঠবে। টোলের হার এরইমধ্যে চূড়ান্ত ও অনুমোদিত হয়েছে।
নিচের সড়কেও দেয়া হচ্ছে পিচের প্রলেপ
দ্বিতল সড়কের নিচের অংশে ধুলাবালি কমানো এবং আরসিসি ঢালাইয়ের স্থায়িত্ব বাড়াতে নতুন করে ৪০ মিলিমিটার পুরু অ্যাসফল্টের প্রলেপ দেয়া হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক বলেন, সাধারণত আরসিসি সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করলে পাঁচ থেকে ১০ বছর পর উপরিভাগ কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, তাই আগেভাগেই সড়কটির ওপর ৪০ মিলিমিটার পিচের প্রলেপ দেয়া হচ্ছে। এতে কংক্রিটের বেড সুরক্ষিত থাকবে এবং যানবাহন মসৃণভাবে চলাচল করতে পারবে। এটি অতিরিক্ত কাজ। তাই এর কারণে মূল সড়কের উদ্বোধন পেছাবে না।
বর্তমানে সড়কবাতি ও সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। নিচতলার ডিভাইডারে মাটি ভরাট, বৃক্ষরোপণ ও শেষ মুহূর্তের পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। সড়কটি চালু হলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ রুটে দীর্ঘদিনের যানজট কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কে টোলের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দ্বিতল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়কের টোলের হার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সেতু বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইমরুল হাসান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে নির্মিত পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর ও কাশীপুর পর্যন্ত দ্বিতল সড়কে যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী টোল আদায় করা হবে। সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার দিন থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।
নির্ধারিত টোলের হার অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে পঞ্চবটি থেকে চরসৈয়দপুর যেতে ৪০ টাকা এবং কাশীপুর পর্যন্ত ২০ টাকা দিতে হবে। তিন চাকার সিএনজি অটোরিকশার টোল যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ টাকা।
প্রাইভেটকার ও জিপের ক্ষেত্রে পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পথে টোল ১০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর পথে ৫০ টাকা। মাইক্রোবাস ও পিকআপের জন্য এ দুই পথে টোল যথাক্রমে ১৫০ ও ১০০ টাকা।
মিনিবাসের টোল পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পথে ২০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর পথে ১২৫ টাকা। ৩১ আসনের বেশি ধারণক্ষমতার বাসের জন্য টোল যথাক্রমে ৩০০ ও ১৫০ টাকা। ছয় চাকার ট্রাকের টোল পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পথে ৪০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর পথে ২০০ টাকা। ১০ চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৬০০ ও ৪০০ টাকা। ট্রেইলারের জন্য পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর পথে ৮০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর পথে ৫০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এই টোলের হার কার্যকরের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ যোগাযোগে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। সৈয়দপুর-রুহিতপুর সেতু ও আন্ডারপাস হয়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলে এ রুটে যান চলাচল কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
সেতু কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত টোলের হার অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে নির্ধারিত টোলকে ব্যয়বহুল বলে মনে করছে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। পঞ্চবটি থেকে চরসৈয়দপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার মূল সড়কের টোল কমানোর দাবি জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ ক্যাবের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর সরকার মন্টু।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন