প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকালীন সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস জানায়, বুধবার তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা ২০টি মার্কিন জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই জলপথটি বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুদ্ধের শুরু থেকে এটি অনেকটাই ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার ছয় মাস পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের একটি অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরান কার্যত শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও অর্থনীতিকে চাপে ফেলার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বুধবার জানায়, আগের দিন মার্কিন বাহিনী পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার প্রতিশোধ হিসেবে তারা জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর তারা ওই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল মার্কিন জাহাজে ইরানের দ্বিতীয় হামলা।
এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে আরও ব্যাঘাত ঘটানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে, ফলে বুধবার এশিয়ার সকালের লেনদেনে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪৬ ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ছিল ৯৪.৪৫ ডলার।
ইরান আরও জানায়, মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলের কাছে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ রেভল্যুশনারি গার্ডস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, এই ‘শাস্তিমূলক অভিযানে’ বিমানঘাঁটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের স্থাপনা, সামরিক মোতায়েনের স্থান এবং যুদ্ধবিমানের আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির দিকে ছোড়া ইরানের ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।
ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ট্যাংকারগুলোতে হামলার আগে তাদের কর্মীদের জাহাজ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল।
মঙ্গলবার কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “ইরান বারবার মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করছে। তারা যতবার এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে। আমার ধারণা, আজও আপনারা এর পুনরাবৃত্তি দেখতে পাবেন।”
মঙ্গলবার ইরানের গণমাধ্যম জানায়, খার্গ দ্বীপের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে তেহরান।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে ও ট্রানজিট ফি দিতে হচ্ছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস মঙ্গলবার আরও জানায়, তারা হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে আধুনিক মানববিহীন’ সাবমেরিন ড্রোনগুলোর একটি জব্দ করেছে।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ড্রোনটি ‘ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল’ এবং এটি ‘পুরোনো মডেলের’ ছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও জানিয়েছে, রেভল্যুশনারি গার্ডস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন