প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য যোগাযোগ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি। নিরাপত্তার দিক থেকে কর্তৃপক্ষের কারণ দেখিয়ে প্রবেশে বয়সসীমা নির্ধারণ করে ইসরাইলি পুলিশ তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। তাই অনেককেই মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হয়েছে। একই সময়ে, ইহুদিদের বার্ষিক শোক দিবস উপলক্ষে ইহুদি দর্শনার্থীদের আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইহুদিদের ধর্মীয় দিবস 'তিশা ব'আভ' উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যা থেকে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে শত শত ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেন।
জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানিয়েছে, ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারার মধ্যে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এ সময়, ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইসরাইলি বাহিনী আল-আকসার প্রবেশপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। এতে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে প্রবেশে বাধা দেন, শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেন এবং কয়েকজন মুসল্লির ওপর হামলা চালান।
জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে, বেন-গভিরের এই প্রবেশকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, এটি এমন কর্মকাণ্ডের প্রতি ইসরাইলি সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের সঙ্কেত যা আগে কেবল উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
এদিকে, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইতামার বেন-গভির ২ হাজারের বেশি বসতি স্থাপনকারীর প্রবেশের ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ মাজালি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনি বিদ্যমান অবস্থার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা জেরুজালেমের ইসলামি ও খ্রিস্টিয়ান পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে চলমান লঙ্ঘন বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।
একই রকম নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, 'এই প্রকাশ্য আগ্রাসনের পরিণতি ভোগ করতে হবে দখলদার ইসরাইল এবং তাদের বসতি স্থাপনকারীদেরই।'
জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে পরিচিত। একই স্থানে ইহুদিরা তাদের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থান মনে করেন। দশকের পর দশক ধরে স্থিতিশীল স্ট্যাটাস কো ব্যবস্থার অধীনে আল-আকসা প্রাঙ্গণের দেখভাল করে জর্ডানের ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ। এই ব্যবস্থায়, ইহুদিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারে কিন্তু প্রার্থনা করার অনুমতি নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন