প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের নির্ধারিত হাম ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসার জন্য জায়গা না পেয়ে মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য ২০ শয্যার একটি পৃথক ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৭৫ জন রোগী। এর ফলে জায়গার সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাম আক্রান্ত মোট ২ হাজার ৪০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৩০৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯২ জন রোগীকে সিলেট ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে বিপুলসংখ্যক রোগী গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর চাপে ওয়ার্ডের মেঝেতে জায়গা নেই। অনেক রোগী ও তাঁদের স্বজনদের শিশুদের নিয়ে হাসপাতালের সিঁড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। একজন রোগীর স্বজন বলেন, “এত কষ্ট করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পড়ে রয়েছি। অথচ হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।”
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই সিলেট অথবা ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহবুব রহমান নামে ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিশু হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাম প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন