প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে জাতিগত হিংসা আবার মাথাচাড়া দিয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তের নিকটবর্তী কামজং জেলার পিলং গ্রামের আশপাশে সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের গুলিতে চার নাগা নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী কাংপোকপি জেলার তিনটি গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অন্তত ৪০টি বাড়ি, একটি গির্জা এবং বেশ কিছু সরকারি স্থাপনা জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই আকস্মিক হামলায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং বহু সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, কামজং জেলার পিলং এলাকায় সন্দেহভাজন কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের আকস্মিক হামলায় চারজন নাগরিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—ফামি জাজো, নিংথেম, বেটারসন জাজো এবং ভারেইশিম জাজো।
এদিকে, কাংপোকপি জেলার মাকুই চাম্রিউপিউ, মাকুই থানাম্বা এবং মাকুই থেব্রাম গ্রামে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর দফায় দফায় এই তাণ্ডব চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মাকুই চাম্রিউপিউতে ১৭টি, মাকুই থানাম্বায় ৮টি এবং মাকুই থেব্রাম গ্রামে ১৬টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। পাশাপাশি, একটি গির্জা ও একটি সরকারি হাসপাতালেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হয়ে রাত আড়াইটা পর্যন্ত টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে এই তাণ্ডব চলে।
এছাড়া, ২৩ সেপ্টেম্বর তামেই মহকুমার লাসানে ওয়াকোটফাই এলাকার বাসিন্দা পাওজাঙ্গাম চংলোই নামের এক ব্যক্তিকেও হত্যা করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন নাগা পিপলস ফ্রন্টের বিধায়ক অবাংবাউ নিউমাই। তিনি কামজং ও কাংপোকপির সাম্প্রতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে হিংসার পথ ত্যাগ করে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সমাজে এ ধরনের পাশবিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং সরকার এটি কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
উল্লেখ্য, মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে জাতিগত সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। নতুন করে এই হামলার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন