১০:০৮ এম
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের পর ব্যাপক আলোচনা চলছে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিস নিয়ে। ম্যাচের শুরুতেই মাতেউস কুনিয়া ক্যানারিনহাদের পেনাল্টি এনে দেন। তবে তারকা উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়র মাঠে থাকা সত্ত্বেও ব্রুনো স্পটকিক নেন, যা নরওয়ের গোলকিপার ওর্ইয়ান নিলান্ড আটকান। ম্যাচের শেষে আর্লিং হলান্ডের দুই গোলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে নরওয়ে। ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন নেইমার জুনিয়র।
ম্যাচের পর, রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার ভিনিসিউস জানান, পেনাল্টি কিক নিতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। তিনি বলেন, "পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির, তবে তিনি চাইলে নিজেই শট নিতে প্রস্তুত ছিলেন।" ভিনি বলেন, "ম্যাচের শুরুতে কোচ ঠিক করে দেন কে পেনাল্টি নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনো অহংকারী ছিলাম না, কখনোই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য লোভ করিনি। তাই ব্রুনোই পেনাল্টি নিয়েছে। সে আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয়, তাই কোচ তাকে বেছে নিয়েছেন। এটাই সত্যি। আমি কখনো দায়িত্ব নিতে পিছিয়ে যাইনি।"
তিনি আরও বলেন, "অনেকে বলতে পারে যে আমি নাকি পেনাল্টি নিতে চাইনি, কিন্তু আমি কখনো দায়িত্ব এড়িয়ে যাইনি। কোচ যখন আমাকে বেছে নেন, তখন আমি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পেনাল্টি নিই। এখন আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ ও সামনে থাকা ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।"
আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩
কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানান, পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, খেলোয়াড়দের গত এক বছরের পেনাল্টি সফলতার পরিসংখ্যান বিবেচনা করে। মাঠে সেরা পেনাল্টি গ্রহণকারীরা না থাকায় ব্রুনো গিমারায়েসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আনচেলত্তি বলেন, "আমরা প্রতিপক্ষ ও নিজেদের খেলোয়াড়দের গত এক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছি। আমাদের সেরা পেনাল্টি গ্রহণকারী নেইমার, এরপর ইগর থিয়াগো, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারায়েস এবং তারপর মার্টিনেল্লি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা ব্রুনো গিমারায়েসকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে আমরা তাকেই সেরা পেনাল্টি গ্রহণকারী মনে করেছি।" ভিনি আবারও স্পষ্ট করেন, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। তিনি বলেন, "এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা বিতর্কই হয়নি। কোচই ঠিক করেছিলেন ব্রুনো পেনাল্টি নেবে। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি, আর তিনি ব্রুনোকেই বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা বা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে কিছু চাইনি। আমি দলের জন্য খেলি। ওই মুহূর্তে ব্রুনোরই পেনাল্টি নেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে মিস করেছে। এটাই ফুটবল। আমাদের মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে হবে। পুরো টুর্নামেন্টে ব্রুনো দারুণ খেলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই মিস করা পেনাল্টিটাই হয়তো তার পারফরম্যান্সকে আড়াল করে দেবে।"
ম্যাচে ব্রুনো গিমারায়েস মাঝারি উচ্চতায় শট নিয়েছিলেন, যা নরওয়ের গোলরক্ষক সহজেই ঠেকিয়ে দেন। গত ইউরোপীয় মৌসুমে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে তিনি দুটি পেনাল্টি নিয়ে দুবারই সফল হয়েছিলেন। যদিও তিনি দলের নিয়মিত পেনাল্টি গ্রহণকারী ছিলেন না। অন্যদিকে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২০২৫-২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাতটি পেনাল্টি নেন। এর মধ্যে পাঁচটি গোল করেন এবং দুটি মিস করেন। আর ব্রাজিলের জার্সিতে তিনি ২০২৩ সালে গিনির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন