০৮:৩৬ এম
সপ্তাহের শুরুতে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা কম দামে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছেন। এই পরিস্থিতিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মূল্যবান এই ধাতুর দাম এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৪ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে শক্তিশালী ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ইল্ড বৃদ্ধির চাপের কারণে বুধবার স্বর্ণের দাম দুই মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
এদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৬ দশমিক ৩ ডলারে স্থির হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা
স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও'কনেল মন্তব্য করেন, ‘৪ হাজার ডলারের কাছাকাছি একটি নিম্নস্তর তৈরি হওয়ায় কম দামে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বেড়েছে। এতে স্বর্ণের দামও বেড়েছে ফেডের সুদের হার আরও একবার বাড়ানোর বিষয়টি এরইমধ্যে বাজারদরে প্রতিফলিত হয়ে থাকতে পারে। একইভাবে সরকারি খাতের অব্যাহত নিট স্বর্ণ কেনার প্রত্যাশাও দামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অপ্রত্যাশিত বড় কোনো ঘটনা না ঘটলে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে হয় না।’
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইল্ড দুই দশকেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমে এসেছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবারও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ বলে মনে করছেন ট্রেডাররা। এ ছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন ৮৪ শতাংশ ট্রেডার।
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, স্বর্ণ কোনো সুদ বা মুনাফা দেয় না। ফলে উচ্চ মুনাফা পাওয়া যায় এমন সম্পদের তুলনায় স্বর্ণে বিনিয়োগ কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৩৯ বিলিয়ন ডলার
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান জানান, ‘আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশ স্বর্ণের দামে পরবর্তী বড় উত্থানের অনুঘটক হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, মুদ্রাস্ফীতি যদি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি থাকে এবং ফেডকে আরও দ্রুত সুদের হার বাড়ানোর পথে ঠেলে দেয়, তাহলে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আবারও মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৪ হাজার ডলারের সমর্থনমূল্য পরীক্ষা করতে পারে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও চলতি সপ্তাহে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা ছিল মন্থর। অন্যদিকে, ছুটির কারণে লেনদেনের সময় কম থাকায় বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ভোক্তা চীনের বাজারেও লেনদেন ছিল নিরুত্তাপ।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৬৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৬ দশমিক ৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। তবে সপ্তাহজুড়ে এই দুই ধাতুর দাম কমার দিকেই ছিল।
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
এদিকে, গত ৯ অক্টোবর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই দাম অনুযায়ীই দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চাহিদার চেয়ে বেশি ফল আমদানি, তবু দাম নাগালের বাইরে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন