প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাভারের বিরুলিয়ায় একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ওই মাদ্রাসা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশের সদস্যরা শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের অবরোধের মুখে পড়তে হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত প্রায় পৌনে ১১টা পর্যন্ত এই ঘটনাগুলো ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার ওই ছাত্রী ধর্ষণের বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই মাদ্রাসা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর চালান। এ সময় বিক্ষুব্ধরা ওই শিক্ষককে না পেয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেকে একটি রুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ লোকজন ভবনটিতে ভাঙচুর শুরু করেন। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্য ব্যক্তিরা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে সাভার মডেল থানা ও ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল এসে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওই মাদ্রাসার পাশাপাশি শিক্ষকের বসবাসের ব্যবস্থা একটি পাঁচতলা ভবনে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ঘটনার সময় আমরাও পুলিশের সঙ্গে ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছিলাম। পরে সাভার থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে আসে। ভাঙচুরের পাশাপাশি ভবন থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগও করেছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়রা মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে নিরাপদে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল মোতায়েন করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ওই ছাত্রীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বারী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া আর কোনো শিক্ষার্থী এমন ঘটনার শিকার হয়েছে কিনা, তা জানতে আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুত ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন