প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এক মাসব্যাপী অভিবাসন অভিযানে ২ হাজার ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। এই অভিযানটি ‘অপারেশন রটেন অ্যাপল’ নামে পরিচিত, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন জানান, ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড, হাডসন ভ্যালিসহ অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আইসের অভিযান কার্যকর হয়।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিলেন, যেমন হত্যা, ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন, মাদক পাচার ও সহিংসতা। তবে মুলিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি যে, গ্রেপ্তার হওয়া ২ হাজার ১৯৭ জনের মধ্যে সকলেই অপরাধমূলক রেকর্ডধারী কি না।
মুলিন মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রবেশ করা অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের ফেডারেল তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসের অভিযানে অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ২ হাজারের বেশি গ্রেপ্তারের এই সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সকলেই নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রচলিত অর্থে অপরাধ করেছেন—এমনটি বলা যায় না। তার অভিযোগ, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধকে একত্রে দেখানোর চেষ্টা করছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও আইসের অভিযানকে সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের অভিযান অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং অভিবাসী হওয়াকেই অপরাধ হিসেবে দেখানোর পরিবেশ তৈরি করছে।
এদিকে, নিউইয়র্কে আইসের গ্রেপ্তার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে অঙ্গরাজ্যটিতে ১ হাজার ৫৫০ জনের বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জাতীয় পর্যায়েও জুলাইয়ে আইসের গ্রেপ্তার প্রায় ৪৯ হাজারে পৌঁছায়, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা।
নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্য সরকারের অবস্থানের পার্থক্য রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ককে ক্রমেই তীব্র করে তুলছে। তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন