প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাপন 'চীনা সামরিক কোম্পানি' হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আলিবাবার দাবি, তাদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আদালতে দাখিল করা আবেদনে, আলিবাবা উল্লেখ করেছে যে, তারা স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের দ্বারা পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তাদের সদস্যদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই। তারা জানিয়েছে, তাদের পণ্য ও সেবা খুচরা বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য তৈরি করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বা গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য নয়।
মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে করা কালোতালিকা থেকে আলিবাবার নাম প্রত্যাহারের দাবি জানান হয়েছে।
গত ৮ জুন, যুক্তরাষ্ট্র আলিবাবাকে চীনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে বলে সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। একই তালিকায় চীনের আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে।
তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পর, আলিবাবা দাবি করে যে, তারা কোনো সামরিক প্রতিষ্ঠান নয় এবং তারা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কর্মসূচির অংশও নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের বিরুদ্ধে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ পদক্ষেপটি নিয়ে সমালোচনা করেছে। দূতাবাসের দাবি, বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানিগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলে। তারা চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈষম্যহীন ও ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে চীনের প্রযুক্তি খাতের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ তালিকা সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে এ তালিকায় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮৮টিতে পৌঁছেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৩০ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরকে কোনো পণ্য, সেবা বা প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারবে না। ২০২৭ সাল থেকে তারা সরাসরি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করেছে যে, চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আলিবাবা দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিক কর্মসূচিতে অবদান রাখছে। তবে এ অভিযোগ আলিবাবা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন