প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এবারও জয়লাভ করতে পারল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, যদিও তারা এগিয়ে গিয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী প্রিমিয়ার লিগের দলটি লিডস ইউনাইটেডের মাঠে হোঁচট খেয়েছে।
রোববার এল্যান্ড রোডে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ১-১ ড্র করে মাইকেল ক্যারিকের দল।
ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ক্লাব কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে জরিমানার শিকার হওয়ার পর অস্থির এক সপ্তাহ কাটিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিডসের মাঠে নামেন ইউনাইটেড। ম্যাচটি উত্তপ্ত পরিবেশে শুরু হয়, যেখানে গোলের সুযোগের তুলনায় কঠিন ট্যাকল ও হলুদ কার্ডের সংখ্যা বেশি ছিল। ব্রুনো ফার্নান্দেস ও গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসন দুজনেই হলুদ কার্ড দেখেন।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে দুই দলের আক্রমণের গতি বেড়ে যায়। সেনে ল্যামেন্সের দুর্দান্ত সেভে নিকো এলভেদির প্রচেষ্টা রুখে যায়, কিছুক্ষণ পর ফাঁকায় থাকা ব্রায়ান এমবেউমো হেড করেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
তবে বিরতির ১০ মিনিট আগে এমবেউমো ভুল শুধরে ইউরি টিলেমানসের নিখুঁত পাস ধরে জেমস জাস্টিনকে পেছনে ফেলে গোল করে সফরকারীদের এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর লিডস সমতায় ফেরে। কর্নার থেকে তারিক মুহারেমোভিচ প্রথমে বল স্পর্শ করার পর আলগা বলের দখল নিয়ে এমবেউমোকে হারিয়ে গোল করেন ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইন।
এরপর ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। অন্যদিকে আন্তন স্টাখের প্রথম স্পর্শে নেওয়া শটও লক্ষ্যে থাকেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে আর কোনো দলই জয়সূচক গোল খুঁজে পায়নি।
এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের ১৩তম স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন রইল, যা ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর প্রথম।
অন্যদিকে মার্চের পর থেকে ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকা লিডস সাত নম্বরে থেকে ইউনাইটেডের চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।
চাপে ক্যারিক
মাইকেল ক্যারিক এখনই ‘জিততেই হবে’ ধরনের চাপ অনুভব না করলেও দ্রুত ইতিবাচক ফল আনতে হবে, তা তিনি ভালো করেই জানেন। চলতি মৌসুমে সাত ম্যাচে ইউনাইটেডের একমাত্র লিগ জয় গত ৪০ বছরের মধ্যে এই পর্যায়ে তাদের সবচেয়ে খারাপ সূচনার একটি।
মাত্র পাঁচ মাস আগে রুবেন আমোরিমকে বরখাস্ত করার পর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে দুই বছরের চুক্তি পেয়েছিলেন ক্যারিক। তবে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আবারও সামনে এসেছে মার্টিনেজের প্রকাশ্য মন্তব্যের মাধ্যমে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হতাশাজনক পরাজয়ের পর এল্যান্ড রোডের বৈরী পরিবেশ ইউনাইটেডের দুর্বলতা উন্মোচন করতে পারত। কিন্তু দলটি লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে। যদিও একটি সেট-পিসে রক্ষণভাগের সামান্য ভুলের কারণে জয় হাতছাড়া হয়েছে।
তবে মিডফিল্ডে ইতিবাচক দিক ছিল। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে যোগ দেওয়া কার্লোস বালেবা নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ লিগ শুরুর ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।
আত্মবিশ্বাস ধরে রাখল লিডস
২০০২ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে টেবিলে এগিয়ে থেকে এই দুই দল প্রিমিয়ার লিগে মুখোমুখি হয়।
গত সপ্তাহে আর্সেনালের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রা থামলেও লিডসের পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখেছে। বলের দখল ও মাঠের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থেকে তারা ইউনাইটেডকে চাপে রাখে, যদিও স্পষ্ট গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত মুহারেমোভিচ ও ক্যালভার্ট-লুইনের যুগলবন্দিতে আসে সমতাসূচক গোল। এল্যান্ড রোডে সর্বশেষ সাত ম্যাচে এটি ক্যালভার্ট-লুইনের সপ্তম গোল এবং চলতি লিগ মৌসুমে সাত ম্যাচে তাঁর চতুর্থ গোল।
ড্যানিয়েল ফার্কের দল ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো এল্যান্ড রোডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারানোর স্বপ্ন পূরণ করতে না পারলেও উন্নতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। ঘরের মাঠে তাদের অপরাজিত লিগ-ধারা এখন আট ম্যাচে, যা ২০০১ সালের ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে দীর্ঘ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন