শাহানুর আলম, বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩৫ পি.এম
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রকাশ্যে টাকা তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। টাকা তোলার এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন তথ্য সংগ্রহকারী তালিকার ৯ নম্বরে থাকা মো. আলামিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রকাশ্যে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন আলামিন। ভিডিওতে টাকা লেনদেনের দৃশ্য ফুটে উঠলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনার বিচার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সমবায় অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ধনপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান,
এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এক প্রকার স্বীকার করেন।
ঘটনাটির বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সখিনা আক্তারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছেন।
ইউএনও মিজ সখিনা আক্তার আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত উপজেলা কমিটিকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মনটা আজ কিছুটা ভারী ছিল। প্রতিদিনের একঘেয়েমি এবং অযথা ক্লান্তি কাটানোর জন্য বিকেলের দিকে একা বেরিয়ে পড়লাম ঘরের বাইরে। যেহেতু আমার বাসা নদীর নিকটে, তাই স্বাভাবিকভাবেই বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে হাঁটতে শুরু করি। কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর চোখে পড়ে এক অবিশ্বাস্য নীরব স্থাপত্য। লাল ইটের তৈরি সাদা রঙের কারুকাজ করা বিশাল এক প্রাচীন দেয়াল, যা স্থানীয়দের কাছে 'লালকুঠি' নামে পরিচিত।
ঐতিহাসিক নর্থব্রুক হল বা পরিচিত লালকুঠি পুরান ঢাকার আঁকাবাঁকা সরু গলির মাঝে এক অনন্য সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। পুরো রাজধানীর গাড়ির হর্ন এবং শহুরে কোলাহলের মধ্যে এটি যেন শান্তির এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ঠিক পাশে ব্যস্ত সদরঘাট। বুড়িগঙ্গার জলে ভেসে আসা নদীর হাওয়া এবং দূরে দূরপাল্লার লঞ্চের হুইসেলের শব্দ এখানে এক অদ্ভুত আবহ তৈরি করে।
লালকুঠির চত্বরে পা রাখতেই নতুন জীবনের ছোঁয়া দেখা যায়। এখানে যেন রূপসী ও তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার এক আনন্দমেলা বসেছে। মন ভালো করতে কিংবা নিজেকে সুন্দর ফ্রেমে বন্দি করতে সবাই দারুণ সব পোশাকে সেজে এসেছেন। বিশেষ করে মেয়েরা নজরকাড়া রঙের শাড়ি, ম্যাচিং গয়না এবং রেশমি চুড়ি পরে এসেছে সাজগোজের সবটুকু ঢেলে দিয়ে। ছেলেদের পরনে ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি। প্রতিটি মানুষের চোখ-মুখে যেন উদ্ভাসিত এক উষ্ণ হাসি। সবাই এসেছে শহুরে ক্লান্তি ভুলে নিজেকে কিছুটা লালিত সময় দিতে।
দালানের ধারের প্রশস্ত চত্বরে স্থানীয়দের হাঁটাচলা এবং শরীরচর্চা করতে দেখা যায়। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা, যেখানে কোনো যানজটের চাপ নেই এবং কোলাহলের হুটোপুটি নেই। মনকে কিছুটা স্থিরতা দিতে চাইলে যে কেউ এখানে এসে ঘুরে যেতে পারেন।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে লালকুঠির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর লাল ইটের দেয়ালে সাদা রঙের সূক্ষ্ম নকশা এবং কারুকাজ। নকশাদার অংশগুলোতে রাতে রয়েছে নান্দনিক আলোর ব্যবস্থা। প্রতিটি লাল ইটের পিলারের শীর্ষে শোভা পাচ্ছে ছোট ছোট সাদা গম্বুজ, আর তার ঠিক ওপরেই কালো রঙের অপূর্ব নকশি কারুকাজ।
দর্শনার্থীদের এই স্মৃতি ধরে রাখতে চত্বরজুড়ে পেশাদার আলোকচিত্রীদের আনাগোনা দেখা যায়। টাকার বিনিময়ে তারা পছন্দসই কোণ থেকে দর্শনার্থীদের রঙিন ছবি তুলে দেন। বিশেষ করে বিকেল গড়িয়ে সূর্য যখন বুড়িগঙ্গার বুকে ডুব দিতে শুরু করে, তখন যেন ছবি তোলা, নদীর হাওয়ায় ভিডিও ধারণ অথবা ব্লগ বানানোর হিড়িক পড়ে যায়। লালকুঠির দেয়ালে গোধূলির আলো পড়ে তৈরি হয় এক অনবদ্য দৃশ্য।
বিকেলের এই সময়ে এখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় জমান প্রিয়জন বা দম্পতিরা। এছাড়া পরিবার কিংবা একঝাঁক বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসা মানুষের আড্ডাও জমে ওঠে বেশ। এই আঙিনা শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের ঘোরাঘুরিতেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ঐতিহাসিক আভিজাত্যের কারণে এখানে প্রায়ই নাটক-সিনেমার শুটিং, মডেলদের ফটোশুট অথবা নতুন দম্পতিদের ওয়েডিং ভিডিওর কাজ হয়ে থাকে।
তবে সাঁঝের বাতি জ্বলতেই ভাঙতে শুরু করে এই আনন্দ-আড্ডা। দিনের শুরুতে সূর্য ওঠার সাথে সাথে খোলা হলেও, সন্ধ্যা নামার পর মাগরিবের আজান শুনলেই লালকুঠির মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ততক্ষণে বুড়িগঙ্গার কূল ছেড়ে ঘরে ফিরতে শুরু করেন সবাই, সঙ্গে নিয়ে যান বিষাদ ভুলে এক চিলতে শান্তির স্মৃতি।
লালকুঠিতে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী তাসনিম মেহজাবিন বলেন, "সারা সপ্তাহের ব্যস্ততা আর ক্লাসের ক্লান্তি কাটাতে নদীর ধারের এই শান্ত পরিবেশ সত্যিই দারুণ। লাল ইটের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে শাড়ি পরে ছবি তুলতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।"
আরেক দর্শনার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, "ঢাকার বিকট যানজট আর হর্নের শব্দ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে বুড়িগঙ্গার এই তীর যেন এক শান্তির দ্বীপ। বিকেলে নদীর হাওয়ায় হাঁটাহাঁটি আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলে মনের সব বিষাদ এক নিমেষেই দূর হয়ে যায়। এছাড়া এখানে যে লাল ইট রয়েছে, সেটি খুব ভালো লাগে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এটি সুন্দর একটি ঘোরাঘুরির জায়গা।"
দায়িত্বে থাকা গেটম্যানের সাথে কথা বলে জানা যায়, "প্রতিদিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে আমরা লালকুঠির মূল ফটক দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দিই। বিকেল গড়াতেই দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। কেউ ছবি তুলতে আসেন, কেউ আসেন একটু শান্তির খোঁজে। ঐতিহ্যের এই চত্বরকে সুন্দর রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল কাজ। তবে রাতের নিরাপত্তা এবং নিয়ম মেনে চলার সুবিধার্থে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে, অর্থাৎ মাগরিবের আজান হলেই আমরা মূল ফটক বন্ধ করে দিই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে উত্থাপন করে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুষ্কৃতকারীরা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে তার হয়রানির ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই ঘটনার পেছনে যারা দায়ী, তারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং দেশের নাগরিকদের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তিতে অনেক দক্ষ হয়ে উঠেছে; তাই তাদের সঠিকভাবে পাঠদান করার জন্য শিক্ষকদের প্রযুক্তি ও এআই বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন।
আজ বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) ‘৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী পেছনের বেঞ্চে বসে থাকে এবং প্রশ্ন করার সাহস পায় না, তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ করে দেওয়াই একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব।’
মন্ত্রী শিক্ষা ও শিক্ষকমণ্ডলির সার্বিক উন্নয়নে গবেষণার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একই সাথে আগামীর আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শিক্ষককে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৬১৩ জন কর্মকর্তা আট দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. সরদার মো. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবি, মাউশি মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং আরডিএ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হক।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি থেকে থাকে। কারণ, যেহেতু প্রশ্নপত্রের দুইটি সেট থাকে, একটি ব্যবহৃত ও অন্যটি অব্যবহৃত। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যৌক্তিক সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এই ফেল-এর লিগ্যাসি বছরের পর বছর টানতে চাইনা। সুযোগ পাওয়ার পরেও যারা অকৃতকার্য হবে তাদেরকে ভোকেশনাল শিক্ষায় স্থানান্তর করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী এরপর ‘১০০টি বিদ্যালয়ে খান একাডেমি, বাংলাদেশ-এর কার্যক্রমের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। এর মাধ্যমে বগুড়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজারে নতুন করে ১০০টি বিদ্যালয়ে খান একাডেমির শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
এরপর মন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন একাডেমী ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ এবং কিরগিজস্তান তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারের জন্য অঙ্গীকার করেছে। এই অঙ্গীকারটি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত দুই দেশের দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠকে করা হয়।
আজকের বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং কিরগিজস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাইরাত তুরসুনকুলভ উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এম. মনিরুল ইসলামও উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, বৃত্তি, শ্রমশক্তির চলাচল, ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ, সংসদীয় বিনিময়, উচ্চপর্যায়ের সফর, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সংস্কৃতি, পর্যটন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে।
এ সময় দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২০২৬-২০২৭ সালের কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এসব চুক্তির লক্ষ্য হলো বাস্তবভিত্তিক ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া।
দুই দেশ ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩৫তম বার্ষিকী উদযাপনের বিষয়েও একমত হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অব্যবহৃত সম্ভাবনা কাজে লাগানোকে উভয় দেশ উচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তারা রাজনৈতিক যোগাযোগ জোরদারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়সহ উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের আয়োজন করতেও সম্মত হয়েছে।
জাতিসংঘ, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, কিরগিজস্তান ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পারস্পরিক সমর্থনের অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তান।
দুই দেশ বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তিকে সম্প্রসারিত সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আলোচনায় ইউরেশীয় অঞ্চলের ভূকৌশলগত গুরুত্ব এবং ১৮ কোটির বেশি মানুষের এই বাজারের সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে আসে। এই অঞ্চল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারি পর্যায়, ব্যবসায়ী পর্যায় এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কিরগিজ পক্ষ।
শিক্ষা, খেলাধুলা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও কর্মসংস্থানের সুযোগের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে উভয় পক্ষ।
কিরগিজস্তানে দক্ষ ও আধাদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুযোগগুলো নিয়ে কথা বলেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
কিরগিজ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বিশেষ করে দেশটির মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়াশোনার সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও ভর্তি কার্যক্রমের জন্য নিয়মিত ও আইনসম্মত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি, শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, কৃষি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি, পর্যটন, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং শিল্প সহযোগিতাবিষয়ক প্রস্তাবিত কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রসচিব সিয়াম কিরগিজস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিনবেক কুলুবায়েভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগ আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
কুলুবায়েভ গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে খলিলুর রহমানকে কিরগিজস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সিয়াম ২০৩১-২০৩২ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং ২০২৮-২০৩০ মেয়াদে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে কিরগিজস্তানের সমর্থন চান। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনেও তিনি কিরগিজস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন।
২০২৭-২০২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে কিরগিজস্তানকে সমর্থন দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কুলুবায়েভ।
দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে দ্বিতীয় দফার পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের এ বৈঠক বাস্তবভিত্তিক ও ফলাফলমুখী সহযোগিতার আরও শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলবে।
পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় তৃতীয় দফার পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ