প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জ, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : শরতের নীল আকাশের নিচে দেবীর আগমনী বার্তা শোনা যাচ্ছে, আর ভক্তদের হৃদয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আবাহন ঘটছে। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা উপলক্ষে আজ শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব। সনাতনী ঐক্য পরিষদ মাতৃসংগীত, নৃত্য ও ধর্মীয় নানা আয়োজনের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন ও মহালয়ার মাহাত্ম্য উদযাপন করছে।
গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম প্রাঙ্গণে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় শারদীয় দুর্গোৎসবের উদ্বোধন করেন রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী হৃদয়ানন্দ মহারাজ।
দেবীর আগমনী সংগীতে অংশগ্রহণ করে শিশু—কিশোররা। সনাতনী ঐক্য পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার চন্দ্রের সভাপতিত্বে এবং পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক দেবাশীষ তালুকদার শুভ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অব. অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাড. বিমান কান্তি রায়, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মন, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার রায় এবং সনাতনী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানস কান্তি তালুকদার।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের সহ সভাপতি পপি ভৌমিক, নবেন্দু তালুকদার ও স্বপন কুমার রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর কান্তি দে সহ সংগঠনের নেতাকর্মী, ভক্ত ও সুধীজন।
বক্তারা মহালয়া উৎসবকে মানুষের মধ্যে জাগরণ ও আনন্দের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, দেবী দুর্গার আগমন যেন সবার জীবনে সত্যিকারের আনন্দ বয়ে আনে। একই সঙ্গে মহালয়ার তাৎপর্য তুলে ধরে প্রয়াত মা—বাবা ও পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানান।
রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী হৃদয়ানন্দ মহারাজ বলেন, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তিনি চণ্ডীতে বর্ণিত অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জাগরণের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষের ভেতরেও শুভ ও অশুভ প্রবৃত্তির লড়াই চলে। মহাশক্তির আরাধনার মাধ্যমে শুভ শক্তির জাগরণ ঘটুক—এটাই মহালয়ার শিক্ষা। তিনি সবার ওপর দেবীর কৃপা বর্ষিত হওয়ার প্রার্থনা করেন।
বক্তারা আরো বলেন, পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও দেবীপক্ষের আগমনের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে সনাতনী ঐক্য পরিষদ মহালয়া উৎসবের আয়োজন করে। বাংলাদেশে দুর্গাপূজার আয়োজন ব্যাপক হলেও দেবীর আগমনী উৎসব আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় তুলনামূলক কম। এ কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মহালয়ার তাৎপর্য ছড়িয়ে দিতে তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ আয়োজনের মাধ্যমে দেবীর আগমনকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি অশুভ শক্তির বিনাশ ও ভক্তদের কল্যাণ কামনা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন