প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের গৌরনদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র হারিছুর রহমান হারিছকে ফের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত করার তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুসারী ও সহযোগীর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এসব ব্যক্তি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় হয়ে হারিছুর রহমানের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি।
এদিকে প্রবাসী আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম ওরফে আকন আজাদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন হারিছুর রহমান। ওই সময় তার বিরুদ্ধে দখলবাজি, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, হামলা-মামলা এবং সরকারি কাজের অর্থের অংশ নেওয়াসহ নানা অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হারিছুর রহমানসহ তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন অনুসারী আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকার রামপুরা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে হারিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হামলা-মারামারি এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। চলতি বছরের ৮ জুলাই আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু ইউসুফের বক্তব্য অনুযায়ী, হারিছুর রহমানের বিরুদ্ধে থাকা ১০টি মামলার মধ্যে আটটিতে তিনি স্থানীয় আদালত থেকে জামিন পান। পরে বাকি দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার আদেশ কারাগারে পৌঁছালে নিয়ম অনুযায়ী তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারামুক্তির পর হারিছুর রহমানের অনুসারীরা আবারও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট, প্রচারণা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে তাকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, হারিছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু তরুণ ও সাবেক দলীয় কর্মীকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এর পেছনে দেশ-বিদেশ থেকে অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে হারিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীর দাবি, তার প্রভাবের কারণে অতীতে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করার সাহস পাননি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রবীণ নেতাদের ভাষ্য, গৌরনদীতে একসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সহাবস্থানের পরিবেশ ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের ফলে সেই পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের অভিযোগ, হারিছুর রহমানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী গ্রুপের কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধ ও উত্তেজনা বেড়েছিল।
এদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ চিকিৎসার জন্য ভারতে যান এবং পরবর্তীতে দেশে ফেরেননি বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। হারিছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসার পর তার সঙ্গে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বক্তব্য জানা যায়নি।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠনের তৎপরতা চলছে। সেই প্রক্রিয়ায় বরিশালেও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে হারিছুর রহমান নিজেকে পুনরায় রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে কি না এবং অর্থের মাধ্যমে কোনো ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রচারের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন