পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছয় মৃত ব্যক্তিসহ ২২ জনকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলায় মৃত ও নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভজনপুরে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হয় যানজট ও ভোগান্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভজনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। মামলায় ফয়জুল নামে একজনকে প্রধান আসামি করে মোট ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আসামিদের মধ্যে ছয়জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তাদের কয়েকজন প্রায় ৩০ বছর আগেই মারা গেছেন বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার নিরীহ ব্যক্তিকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ এলাকায় ড্রেজার দিয়ে যারা নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার বিকেলে ভজনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রথমে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন। পরে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন আটকে দেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রকৃতপক্ষে যারা ড্রেজার দিয়ে পাথর-বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মৃত ও নিরীহ ব্যক্তিদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ। তাঁর হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে মুক্ত করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ বলেন, মামলাটি প্রত্যাহার করে প্রকৃত অর্থে যারা অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মামলার বাদী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লোকমুখে শুনে আসামিদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যারা প্রকৃতপক্ষে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে কীভাবে মৃত ও নিরীহ ব্যক্তিদের নামে মামলা করা হলো। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।