শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫৩ এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। এ বিষয়ে দলের মিডিয়া সেল থেকে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোটরসাইকেল আরোহী কিছু দুর্বৃত্ত এনসিপি কার্যালয়ের সামনে তিনটি ককটেল ছুড়ে মারে। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়, কিন্তু বাকি দুটি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় রয়ে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা পরে ঘটনাস্থলে এসে অবিস্ফোরিত ককটেল দুটি নিষ্ক্রিয় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগে আয়োজনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদি নির্বাচন মার্চ বা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পুনরায় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের একজন উপদেষ্টা আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।
আঙ্কারায় প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মেহমেত উচুম জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের নির্বাচন মার্চ বা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। বর্তমানে নির্বাচন মে মাসে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন জোটের কিছু শরিক এরদোগানকে আবারও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিতে আগাম নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এরদোগান প্রায় ২৩ বছর ধরে তুরস্কের ক্ষমতায় আছেন। ২০১৭ সালের গণভোটের মাধ্যমে দেশে নির্বাহী প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সাধারণত দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট আবারও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। আগাম নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করার পেছনে এই সাংবিধানিক বিধানটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা ওজগুর ওজেল অবশ্য আগাম নির্বাচনকে এরদোগানের পুনরায় প্রার্থী হওয়ার সুযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন না। তাঁর দল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ জানাতে চায়।
এরদোগানের ক্ষমতাসীন জোটের শরিক ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির (এমএইচপি) নেতা দেবলেত বাহচেলি বলেছেন, উপযুক্ত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে এরদোগানের আবারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
তুরস্কের ৬০০ সদস্যের পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত পাস করতে অন্তত ৩৬০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে ক্ষমতাসীন একে পার্টি ও তাদের মিত্রদের হাতে ৩৩১টি আসন রয়েছে। ফলে প্রস্তাব পাস করতে তাদের আরও ২৯ জন পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্য ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যদি তারা ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা না করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই সতর্কতা প্রদান করেছেন।
বিবিসি জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার থেকে ইরিত্রিয়ার কূটনীতিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। তাদের লন্ডন থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার অনুমতি থাকবে না। এছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, ইরিত্রিয়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করছে না। তবে ইরিত্রিয়া এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে ‘রাজনৈতিক লোকদেখানো কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির দূতাবাসের অভিযোগ, যুক্তরাজ্য ফেরত পাঠানোর জন্য যথেষ্ট তথ্য প্রদান করেনি এবং অর্থবহ আলোচনায় অংশগ্রহণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে ছোট নৌকায় করে দেশটিতে আসা অভিবাসীদের মধ্যে ১৮ শতাংশই ইরিত্রিয়ার নাগরিক ছিলেন। ওই সময়ে ৫ হাজার ৮০০ জনের বেশি ইরিত্রীয় ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু একই সময়ে মাত্র সাতজন ইরিত্রীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন মনে করেন, ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের প্রভাব সীমিত হতে পারে। তার মতে, ইরিত্রিয়া থেকে আসা বেশিরভাগ আশ্রয়প্রার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানো কঠিন, কারণ তারা অধিকাংশই আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন।
ইরিত্রিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে একদলীয় শাসন চলছে। ১৯৯৩ সালে স্বাধীন হওয়ার পর দেশটিতে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ, জোরপূর্বক শ্রম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে অনেক তরুণ দেশটি ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
এর আগে নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা না করায় অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধেও যুক্তরাজ্য ভিসা বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। পরে সহযোগিতা বাড়ানোর কারণে কঙ্গোর ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে ২০ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ দেশটিতে এসেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৪০ শতাংশ কম।
এদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানো বা বহিষ্কার করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৮ শতাংশ বেশি। তাদের মধ্যে ৬ হাজারেরও কম ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের বরিসোগলেবস্ক সামরিক বিমানঘাঁটিতে রাতভর হামলা চালিয়ে ইউক্রেন ছয়টি এসইউ-৩৪এম বোমারু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এর মধ্যে চারটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং দুটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, রাশিয়া এসব বিমান ব্যবহার করে ইউক্রেনের জনগণের ওপর হামলা চালাত। তিনি উল্লেখ করেন, বিমানগুলো ইউক্রেনে নতুন করে হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল এবং সেগুলোতে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা সজ্জিত ছিল।
তিনি আরও জানান, রাশিয়া যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে। এই কারণে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত থাকবে।
ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানায়, তাদের নেপচুন উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, বিমানঘাঁটির ভেতরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার গুসেভ কয়েক দফায় ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি করেছিলেন। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা যায়।
বরিসোগলেবস্ক সামরিক বিমানঘাঁটিটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারির অবস্থান থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার বা ২৩০ মাইল দূরে অবস্থিত।
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড শারদীয় দুর্গাপূজায় ধর্মীয় উপাসনালয় ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। পূজার সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য নিয়োজিত আছেন।
কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, উপকূলীয় এলাকা সহ মোট ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ড কাজ করছে। এর মধ্যে পূর্ব জোনে ৬৩টি, পশ্চিম জোনে ১৪৪টি, দক্ষিণ জোনে ৩৭১টি এবং ঢাকা জোনে ৩৭টি মণ্ডপ রয়েছে।
কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক আরও জানান, এসব মণ্ডপে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘পূজা চলাকালে নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলার জন্য কোস্ট গার্ডের বিশেষ ডুবুরি দলকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ