প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : ‘আর নয় বাল্যবিয়ে, এগিয়ে যাবো স্বপ্ন নিয়ে, করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা, সরকার দেবে ৪০০ টাকা’ এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখে দেবহাটায় কিশোরী ও অভিভাবকদের জন্য একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের অংশ হিসেবে কিশোরীদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ প্রদান করা হয় এবং সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পরিচালিত ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় জানানো হয়, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের পাশাপাশি কিশোরীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।
নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাজে অর্থনৈতিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ এবং সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের জমাকৃত সঞ্চয়ের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা হিসেবে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৯ টাকা প্রদান করা হয়।
এছাড়া দেবহাটা উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ কিশোরী বাল্যবিয়ে না করার শপথ নিয়ে প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়েছে বলে জানানো হয়।
সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ তহিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মৃদুল সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিআরডিবি সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক আফরুজ্জামান, দেবহাটা উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সন্দীপ মন্ডল, শিক্ষার্থী তাহেরা ইসলামসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, সঞ্চয়ের অভ্যাস ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষা, সচেতনতা ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে কিশোরীদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাসও তৈরি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন