বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫২ পি.এম
ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ৪১ বছর বয়সেও পর্তুগালের হয়ে খেলা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে নিজের তুলনা নিয়ে রসিকতা করেছেন।
এখনও জাতীয় দলের হয়ে খেলা রোনালদোকে দেখে এমবাপ্পে মনে করেন, তাঁর মতো দীর্ঘ সময় ধরে খেলার সুযোগ তিনি পাবেন না। এমবাপ্পে রসিকতার ছলে বলেছেন, "ফ্রান্স আমাকে কখনোই ৪১ বছর পর্যন্ত খেলতে দেবে না।"
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রোনালদোর মতো ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত ফ্রান্সের হয়ে খেলে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর কল্পনায় আছে কি না।
এমবাপ্পে হাসতে হাসতে বলেন, "সত্যি বলতে, আমি যে দেশের হয়ে খেলি, সেটা বিবেচনায় নিলে—ফ্রান্স আমাকে কখনোই ৪১ বছর পর্যন্ত খেলতে দেবে না।"
তবে রোনালদোর অসাধারণ দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রশংসা করতে ভোলেননি এমবাপ্পে। তাঁর মতে, একজন ফুটবলার যদি শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে ঠিক রাখতে পারেন, তাহলে তিনি অনেক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যেতে পারেন—এটি রোনালদো প্রমাণ করেছেন।
এমবাপ্পে মনে করেন, তাঁর ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সম্ভব নয়। বর্তমানে রোনালদোর বয়স ৪১, অন্যদিকে এমবাপ্পের বয়স ২৭। পর্তুগালের জাতীয় দলে রোনালদো এখনও নিয়মিত খেলছেন, আর ফ্রান্সের অধিনায়কত্ব করছেন এমবাপ্পে।
দুজনের সম্পর্ক মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও রয়েছে। ছোটবেলায় রোনালদোকে আদর্শ হিসেবে মানতেন এমবাপ্পে। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি এমবাপ্পে জানিয়েছেন, শৈশবের সেই আদর্শ এখন তাঁর পরামর্শ ও সমর্থনের একজন নির্ভরযোগ্য মানুষ।
সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক সূচিতে রোনালদো পর্তুগালের দলে আছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগে ওয়েলসের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে পর্তুগাল। এক দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ফ্রান্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে গুচ্ছভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা যদি আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তার আগেই— অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই— জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এই বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা আসার পরে দেখলাম একটা বিশ্ববিদ্যালয়, সে ছেলেমেয়েদের অনার্স-মাস্টার্স সার্টিফিকেট দিচ্ছে এবং সে পাশ কোর্স এবং অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্সের সার্টিফিকেট দিচ্ছে। কিন্তু কোনো ভর্তি পরীক্ষা নাই এবং এটা একটা স্কোরিং করা হচ্ছে। একটা তার রেজাল্ট যেটা আছে এসএসসি এবং এইচএসসিতে সেটাকে এভারেজ করে একটা রেজাল্ট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে যেটা দেখতে পেয়েছি, যে মেয়েটা ফিজিক্স পড়তে চায়, সে পেয়ে গেছে হয়তো ইতিহাস। অথবা যে বাচ্চাটা একটা সাবজেক্ট পড়তে চায়, কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে চায়, সে হয়তো দেখা গেল পেয়ে গেছে সামাজিক বিজ্ঞানের কোনো একটা সাবজেক্ট।"
উপাচার্য আরও বলেন, "এরকম একটা অবস্থার ভেতরে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের একটু সেনসিটিভিটি আছে। ভর্তি পরীক্ষা সারা দেশব্যাপী ৫০০ উপজেলা, ৬৪টা জেলায় আমার ভর্তি পরীক্ষা হবে। সেটা একটা বিশাল বড় ম্যানেজমেন্ট। সব থেকে বড় এসএসসি এসএসসির মতো একটা বড় ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা পারব কিনা। আমরা অনেকগুলো মিটিং করার পরে, ব্রেইনস্টর্মিং করার পরে আমরা দেখলাম যে আমরা পারব। আমরা ইনশাআল্লাহ দুইটা ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছি, সফলভাবে নিয়েছি।"
তিনি আরও জানান, "ছেলেমেয়েরা খুশি এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। এবং এতে একটা জিনিস হয়েছে যে ছেলেমেয়েরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে তার ভিতরে একটা সেন্স অব বিলংগিংনেস। যে আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আগে মনে করত যে আমি একটা বোর্ডে জিজ্ঞাসা করলে বলত কোথায় যাচ্ছ? বলে গাজীপুর বোর্ডে যাচ্ছি। এখন বলার চেষ্টা করছে যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি। আর সেন্স অব বিলংগিংনেস, তারপরে তার যে একটা প্রাইড। যখন আমার বড় বড় কলেজের সেন্টারে ভর্তি পরীক্ষা হয়, আপনারা দেখবেন যে হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা আসছে ভর্তি পরীক্ষা দিতে, তাদের বাবা-মা আসছে, একটা উৎসবমুখর পরিবেশে এ ভর্তি পরীক্ষাটা হচ্ছে। এখানে মেরিটটা এমনভাবে যাচ্ছে যে যেটা পড়তে চাচ্ছে, তার একটা চয়েস, সেটা সুযোগটা পাচ্ছে এবং জেনুইনলি পাচ্ছে, তার স্কোরের উপরে ভিত্তি করে।"
এ এস এম আমানুল্লাহ আরও বলেন, "আমরা আশা করছি আগামীতে ভর্তি পরীক্ষা চলবে। আমাদের অন-ক্যাম্পাসেও ভর্তি পরীক্ষা ছিল না। এখানে আমরা ভর্তি পরীক্ষা চালু করেছি। তবে আমাদের এবার বড় ভর্তি পরীক্ষাটা চেষ্টা করব গুচ্ছের আগে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে নেওয়া যায় কিনা? গুচ্ছটা হয়তো মার্চের দিকে নিতে পারে। গুচ্ছ যদি মার্চের দিকে নেয়, আমরা চেষ্টা করব জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দিকেই আমাদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নিতে।"
তিনি উল্লেখ করেন, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় খুব বেশি একটা পরিবর্তন হবে না। আগের মতোই প্রশ্ন থাকবে। তবে প্রিপারেশন নিতে হবে। যদি ভালো কলেজ চান, ভালো সাবজেক্ট যদি চান এবং আপনার ভালো ক্যারিয়ার যদি করতে চান, তাহলে আপনাকে মোটামুটি ভালো প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষায় বসতে হবে। এবার অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রিপারেশন নিয়েই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়, দেড় বছর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাঁজাসহ সাত কিশোরকে আটক করা হয়েছিল।
ছবিতে একজনকে ফাহাদ বলে দাবি করা হলেও পরিবারের সদস্য এবং তৎকালীন সহকারী প্রক্টর জানিয়েছেন, ছবির ছেলেটি ফাহাদ নয়, বরং তিনি মাহিম। এ বিষয়ে মাহিম নিজেও একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। ওই সময় ছবিটি দেখে তৎকালীন সহকারী প্রক্টর জানিয়েছিলেন, ছবির ছেলেটি ফাহাদ। অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারও একই দাবি করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে পরবর্তীতে তৎকালীন সহকারী প্রক্টর জানান, ছবির ছেলেটি ফাহাদ নয়, তিনি মাহিম।
সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, "ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদককারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে আমার ছেলে অপ্রতিমকে টার্গেট করা হয়ে থাকলে আমি তা মেনে নেব না।"
জানা গেছে, সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটকের ঘটনায় নেতৃত্ব দেন তৎকালীন কুবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। এ সময় দুই সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান রাহাত ও মুতাসিম বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে জব্দ করা গাঁজাও ধ্বংস করা হয়েছিল।
ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ফাহাদও রয়েছে। তবে দেড় বছর আগে কুবিতে গাঁজাসহ আটক হওয়ার ছবিতে থাকা ছেলেটি ফাহাদ নয় বলে জানিয়েছেন মাহিম। অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় মাহিম যা বললেন
ভিডিও বার্তায় মাহিম বলেন, ‘২০২৫ সালে ভার্সিটির একটা কনসার্ট ছিল। কনসার্টে আমরা গিয়েছিলাম। তারপর আমরা বন্ধুরা পাহাড়ের উপরে উঠছিলাম একটু আড্ডা দেব, গানটান করব—এই হিসেবে। তারপর ম্যাম (ড. নাহিদা বেগম) এসে অভিযান চালিয়েছিলেন। আমাদের কাছ থেকে কিছু পাননি। সেখান থেকে একটু দূরে পেয়েছিলেন। এরপর ম্যাম এসে আমার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছিলেন। নেওয়ার পর বলেছিলেন, তোমাদের পরীক্ষা সামনে। এরপর অভিভাবক ডেকে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ওই নিউজটা আবার ছাড়তেছে। আর ওই ছবির ভেতরে আমি মাহিম ছিলাম, কোনো ফাহাদ না। ওইটা আমার ছবি ছিল। আর ওদের সঙ্গে যে তুহিন, তারপরে ফাহাদ, আরও কে কে—ওদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। ওদের আমি চিনিও না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘মাহিমের পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তারা বলেছে, এটা ফাহাদ না। এটা মাহিম।’
২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কুবি ক্যাম্পাসের লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ আটক হওয়ার একটি ছবি প্রতিনিধির হাতে এসেছে। ছবিতে একজনকে চেক শার্ট, ট্রাউজার ও সাদা-কালো শীতের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়। ছবিটিকে শুরুতে কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে ফাহাদের ছবি বলে জানিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ছবির ছেলেটি মাহিম।
এর আগে গণমাধ্যমকে ড. নাহিদা বেগম বলেছিলেন, প্রক্টরিয়াল টিমের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আজ আমরা মাদকসহ এ সাতজনকে আটক করেছি। তাদের ভাষ্যমতে, সবার বয়স ১৮ বছরের কম। ভবিষ্যতে তারা যাতে কোনো বড় অপরাধে জড়িত না হয়, সেজন্য মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফাহাদকে নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য
মামলার আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। তার বাবা অটোরিকশাচালক। ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
জানা যায়, চলতি মাসের ২ তারিখে অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের ইলেকট্রিক অফিসে চাকরি নেয় ফাহাদ। তিনি বলেছিলেন, দেড় বছর আগে কুবিতে গাঁজাসহ আটকের সময় সাত কিশোরের সঙ্গে থাকা ছেলেটিই ফাহাদ।
তবে ফাহাদের মা জুলি আক্তার এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, ‘এখানে ফাহাদ নেই।’ যদিও তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ বলেছিলেন, ‘এটা ফাহাদ। তারা সবাই মুচলেকা দিয়ে প্রক্টর অফিস থেকে গিয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজনও এসেছিল।’ পরে তিনি এ বক্তব্য সংশোধন করেন।
‘আমার ছেলেকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা হচ্ছে’
এদিকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এ সময় ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিভিন্ন আইডি থেকে ব্লেম করা হচ্ছে। আমার ছেলে কিছু বোঝে? আমার দুধের শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে আমি এটা কখনই মেনে নেব না। আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে—সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।’
ড. নাহিদা বেগম আরও বলেন, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে অপ্রতিমকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। ওই ঘটনার কারণে তার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকলে তিনি তা মেনে নেবেন না।
তিনি বলেন, আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।
এ সময় কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) তারেক আবদুল্লাহ, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং সাবেক সভাপতি শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়ায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাইফুদ্দিন, যিনি সাইফুল ইসলাম নামেও পরিচিত এবং ‘বালু সাইফু’ নামে পরিচিত, অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। পটিয়ায় ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণসহ তার বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব হাইদগাঁও এলাকায় গভীর রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাইফুদ্দিন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক এবং হাইদগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলের এমপি সামশুল হক চৌধুরীর সময়ে ‘বালু সাইফু’ অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাননি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হওয়ার পর তিনি এবং তার কয়েকজন সহযোগী পটিয়ার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদক এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১৩টি মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ ও ২৭ আগস্ট দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এবং একই বছরের ১ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় হত্যাচেষ্টা, মারধর, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরেও সাইফুদ্দিন পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে বীরদর্পে অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। তিনি প্রতিনিয়ত ফেসবুকে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও উসকানি দিয়েছেন। তাকে নিয়ে পটিয়ার রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন অস্বস্তিতে ছিল। পটিয়া থানার পাশাপাশি বিভিন্ন থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারে একাধিকবার চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হয়েছিল।
স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পরেও সাইফুদ্দিন পটিয়ায় চোলাই মদের ব্যবসা, পাহাড়ে জমি এবং বাগান মালিকদের জিম্মি করে মাসিক হারে চাঁদাবাজি সহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের পাহাড়ের তিকুরাপাড়া এলাকায় তার একটি বিশাল চোলাই মদের কারখানা রয়েছে। সেখান থেকে মদের চালান বিকাল বেলা পটিয়ার পাহাড়ের পাদদেশে এনে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন বাহনে পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও চন্দনাইশের একাংশে বিতরণ করা হতো। তার নেতৃত্বে পাহাড়ের ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের মাসিক হারে চাঁদা না দিলে কোনো বাগান মালিক বা তাদের শ্রমিকরা সেখানে যেতে পারেন না। চাঁদা না দিলে পাহাড়ে গেলে তাদের অপহরণ করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়।
ওসি জিয়াউল হক জানিয়েছেন, সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে গোল করে মানুষের হৃদয় জয় করার পাশাপাশি, মাঠের বাইরেও নিজের শিকড়ের মানুষের জন্য একের পর এক কাজ করে চলেছেন সাদিও মানে। এবার তিনি জন্মস্থান সেনেগালের বাম্বালিতে ২৪৬ কোটি টাকার বিশাল কৃষি প্রকল্প নিয়ে এসেছেন।
সেনেগালের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএসের তথ্য অনুযায়ী, মানের উদ্যোগে ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’ নামে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে ১১৭০ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫০ কোটি টাকার সমান।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর, সাদিও মানে নিজ গ্রাম বাম্বালিতে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। সেখানে ৫০০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠবে আমের বাগান, যেখানে প্রায় ৭৮ হাজার আমগাছ লাগানো হবে।
এছাড়া, প্রকল্পটিতে আম বাছাই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি কারখানা, কৃষি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সুবিধা থাকবে। এই প্রকল্পটি শুরুতে ১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে এই সংখ্যা আড়াই হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
নিজের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মানে বলেছেন, ‘আমি চাই আমাদের মাটির সম্পদ আমাদের কাছেই থাকুক। এই সম্পদ থেকে যে আয় হবে, তা সবার আগে আমাদের মানুষের উপকারে আসুক।’
সৌদি ক্লাব আল নাসরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সতীর্থ হিসেবে খেলা মানে আরও জানান, ‘এই প্রকল্প শুধু সংখ্যার বিষয় নয়। আমি চাই আমাদের অঞ্চলের তরুণ ও নারীরা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাক। এ কারণেই প্রকল্পের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রাখা হয়েছে, যাতে আধুনিক কৃষিপদ্ধতি শেখানো যায়।’
বাম্বালির মানুষের উদ্দেশে মানের বার্তা আরও স্পষ্ট, ‘এই প্রকল্প আপনাদের। আমি এটি আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। নিজেদের প্রকল্প মনে করে এটিকে এগিয়ে নিন। আপনারাই এটি পরিচালনা করবেন।’
এর আগে, সাদিও মানে বাম্বালিতে স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল ও পেট্রোল স্টেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক অবকাঠামোতে টাকা দিয়েছেন। এবার তার লক্ষ্য শুধুমাত্র দান করা নয়, বরং স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ