প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ও পৌর যুবদলের দুই নেতাকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে তাদের বহিষ্কার করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘোষণা আসে।
এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা, সমালোচনা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিনকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আহমদকে পৌর যুবদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করতে দেখা যায়।
এর আগে, ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটি আবদুল মমিন ও নুর আহমদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে। তাদের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শন, সংগঠনের সহযোদ্ধাকে অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করা এবং বিভিন্ন অনাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রায় এক সপ্তাহ পর, ১৮ সেপ্টেম্বর, সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। ওই সভার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে আবদুল মমিন ও নুর আহমদকে যথাক্রমে উপজেলা ও পৌর যুবদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করতে দেখা যায়।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত দুই নেতাকে কীভাবে আবার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর ঘোষণা দেওয়া হলো। তাদের দাবি, যুবদলের কমিটি গঠন কিংবা কাউকে সাংগঠনিক পদ দেওয়ার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু বলেন, "জাতীয় নির্বাচনের আগেই যুবদলের সব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ওই বিলুপ্ত কমিটির দুই সদস্যকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "স্থানীয় এমপির বহিষ্কৃত দুই নেতাকে নিয়ে সভাপতি ঘোষণা দেওয়ার ভিডিওটি দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কয়েকটি স্ক্রিনশটও আছে। তারা তো বর্তমানে কোনো কমিটিতেই নেই।"
অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, "তারা আমার সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী। তারা দলের জন্য সব সময় কাজ করেছে। আমি তাদের এই বহিষ্কার মানি না। তাই তাদেরকে সভাপতি ঘোষণা করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি ক্লিয়ার করে দিয়েছি—যেখানে বহিষ্কার, সেখানেই আবিষ্কার।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া হাইস্কুল গেট এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
গত ১৩ আগস্টের ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আহত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী। অন্যদিকে আহতরা স্থানীয়ভাবে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ওই দিন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিলে আবদুল মমিন ও তার অনুসারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। এ ঘটনার পর কেন্দ্রীয় যুবদল আবদুল মমিন ও নুর আহমদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।
কেন্দ্রীয় বহিষ্কারাদেশের পরও দুই নেতাকে নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যে নাঙ্গলকোটের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার কিংবা দুই নেতাকে নতুন করে সাংগঠনিক পদ দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন