প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পদ্মার তীব্র স্রোতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া গ্রামের প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে অন্তত ১০টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অনেক ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত থেকে পদ্মার স্রোত বাড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে স্রোতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেলে কাথুরিয়া গ্রামে শুরু হয় ব্যাপক ভাঙন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বসতভিটা, দোকানপাট ও সড়কের বিভিন্ন অংশ নদীতে বিলীন হতে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে চোখের সামনে নদীতে চলে যায় গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভাঙনের আতঙ্কে অনেকে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ভাঙনের কবলে পড়েছে স্থানীয়দের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কও। সড়কের বেশ কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা।
ভাঙন ঠেকাতে ঘটনাস্থলে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলছেন শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মার তীব্র স্রোতের তুলনায় জিও ব্যাগ ফেলার পরিমাণ খুবই কম। ফলে ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ফল মিলছে না। দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভাঙন নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং জিও ব্যাগের মাধ্যমে আপাতত ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পদ্মার স্রোত অব্যাহত থাকলে নতুন করে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন