প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন পেন্টাগন প্রদান করেছে। সাবেক মার্কিন মেজর ও চিকিৎসক নিডাল মালিক হাসানকে ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন নিরস্ত্র মার্কিন সৈন্যকে হত্যা এবং ৩২ জনকে আহত করার অভিযোগে দণ্ডিত করা হয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, গত সোমবার পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিডাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করার সুপারিশ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সুপারিশে সম্মতি প্রদান করেছেন।
তবে, মৃত্যুদণ্ডের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ৫৬ বছর বয়সী নিডাল হাসান ১৯৪৫ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখোমুখি হওয়া প্রথম ব্যক্তি হবেন। এটি ১৯৬১ সালের পর যেকোনো পদ্ধতিতে কার্যকর হওয়া প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ডও হবে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল স্যোশাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, সেনাবাহিনীর সচিব এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন। অবশেষে হাসানের বিচারের চূড়ান্ত দিন এসে গেছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত হাসান ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড ঘাঁটির একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে হামলা চালান। হামলার ফলে ১২ জন কর্মরত নিরস্ত্র সৈন্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিহত হন, এবং ৩২ জন আহত হন। টেক্সাসের ওই সামরিক ঘাঁটিতে লেজার-সাইটযুক্ত হ্যান্ডগান দিয়ে হামলার দায়ে ৪৫টি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের জন্য ২০১৩ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
এটি ছিল কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধছাড়া প্রাণঘাতী হামলা। সামরিক আইন অনুযায়ী, কোনো সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। নিডাল হাসান মার্কিন সামরিক বাহিনীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন বন্দীর মধ্যে একজন।
যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড রাজ্য পর্যায়ে কার্যকর হলেও বর্তমানে ২৭টি রাজ্য, সামরিক বাহিনী এবং ফেডারেল সরকারের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রয়েছে। তবে, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনরুজ্জীবিত করেন, যা জো বাইডেন প্রশাসনের সময়ে স্থগিত ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন