প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, "বস্তুনিষ্ঠতার প্রশ্নে সাংবাদিকদের আপসহীন থাকতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ফেক (অসত্য) নিউজ কোথাও টিকবে না, কারণ বস্তুনিষ্ঠতার কাছে ফেক নিউজ সবসময় পরাজিত হয়।
তিনি সাংবাদিকদের জন্য ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এটি সাংবাদিকতার মূলভিত্তি এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসস কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে সংস্থার ৩৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, "অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বর্তমানে এতটাই বেড়েছে যে, আমরা বিশ্বাসের জায়গা হারিয়ে ফেলেছি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন চেহারা ও কণ্ঠস্বর বদলে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি এসেছে। এই অবস্থায় সাংবাদিকদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হলে, কোনো খবর প্রচার বা প্রকাশের আগে তথ্য বারবার যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি বিরোধী মতকে কোনঠাসা করার, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য গুজব ছড়ানোর বিষয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, "গত জাতীয় নির্বাচনের আগে এআই ব্যবহার করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অসংখ্যবার মিথ্য তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়েছে।"
বাসস এমডি বলেন, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবারিত হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর অপব্যবহার হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইউটিউব, ভুয়া ওয়েবসাইট ও গণমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও আয়ের লোভে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে পরাজিত ফ্যাসিস্টরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নেতাদের কণ্ঠ ও অবয়ব নকল করে রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "দেশের সাইবার সাক্ষরতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।" সেখানে আবেগতাড়িত মিথ্যা তথ্য জনমতকে প্রভাবিত করে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দেশের সব নাগরিককে সঠিক তথ্য যাচাই এবং ভুয়া কনটেন্ট প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, "এআই ও প্রযুক্তির মোহে অন্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব প্রযুক্তি মূলত বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে পরিচালিত হয়ে আমাদের তথ্য ও মনস্তত্ত্ব সংগ্রহ করছে। তিনি বলেন, "এআই ও সোশ্যাল মিডিয়া অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত নেতিবাচকতা ছড়ায়।" তাই তিনি মনে করেন, দিনশেষে মানুষের বিবেক, সহানুভূতি ও মানবিক বোধসম্পন্ন মনুষ্য সাংবাদিকতাই টিকে থাকবে এবং এই পেশাকে বাঁচিয়ে রাখবে।
তিন দিনব্যাপী (১৩-১৫ অক্টোবর) এই কর্মশালায় গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে ফ্যাক্ট চেকিং, স্মার্টফোন নির্ভর মোবাইল সাংবাদিকতা এবং এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনের কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি সংবাদে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, ব্যক্তির গোপনীয়তা এবং মানবিক দিকগুলো তুলে এনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ফজলুল হক, প্রধান বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) মো. মানিকুল আজাদ, প্রধান বার্তা সম্পাদক (বাংলা) মুরসালিন নোমানী, চিফ রিপোর্টার (ইংরেজি) জি এম রাজিব হোসেন, চিফ রিপোর্টার (বাংলা) মো. দিদারুল আলম এবং পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন