প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের সদরপুরে একটি আবাসিক হেফজ মাদরাসার ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে কক্ষে আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সদরপুর উপজেলার চাররশি এলাকার আজিবুন্নেছা আন্তর্জাতিক হিজবুল কুরআন মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত শিশুটি আব্দুল্লাহ (১০) সদরপুর উপজেলার দক্ষিণ আটরশি গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও লিজা আক্তার দম্পতির ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার আবাসিক হেফজ বিভাগের ছাত্র।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল করিমের ভাই মুরসালিন এবং তিন শিক্ষার্থী রাজিব, রায়হান ও সুজন মিলে আব্দুল্লাহকে মারধর করে। মুরসালিন নগরকান্দা উপজেলার ভুলাদিয়া গ্রামের মিরান শেখের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মুরসালিনকে নাম ধরে ডাকায় অভিযুক্তরা আব্দুল্লাহর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তাকে মাদরাসার একটি কক্ষে আটকে হাত-পা, বুক, পিঠ, নাক ও মুখে মারধর করা হয়। এই মারধরের ফলে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়। মারধরের পর তাকে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ের কারণে শিশুটি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে কিছু বলতে পারেনি।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহকে দেখেও মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল করিম যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি। তিনি শিশুটিকে একটি নাপা ওষুধ খাইয়ে জানাজার নামাজে অংশ নিতে চলে যান। পরে জানাজা শেষে মাদ্রাসায় ফিরে শিশুটির জ্বর দেখে তার বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শিশুটির মা লিজা আক্তার ও চাচা দ্রুত মাদরাসায় যান। পরে তারা বিষয়টি সদরপুর থানায় জানান। সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
শিশুটির মা লিজা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে কক্ষে আটকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা মামলা না করতে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন