প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা এবং সমাজসেবী এস্থার র্যান্টজেন ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ফুসফুসের শেষ পর্যায়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়। ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে বিবিসির ‘দ্যাটস লাইফ!’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত প্রচারিত বিবিসির জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ শো ‘দ্যাটস লাইফ!’-এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী ইস্যুতে কাজ করেছেন এস্থার র্যান্টজেন। তার উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের ফলস্বরূপ যুক্তরাজ্যে শিশুদের জন্য গাড়ির সিটবেল্ট বাধ্যতামূলক করা হয় এবং খেলার মাঠে আঘাত এড়াতে নিরাপদ মেঝের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৮৬ সালে শিশু নির্যাতন রোধে তিনি ‘চাইল্ডলাইন’ নামক ২৪ ঘণ্টার বিনামূল্যে হেল্পলাইন চালু করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে একাকী বয়স্কদের সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য সিলভার লাইন’।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬৬৯ জন ইহুদি শিশুকে জীবন বাঁচানোর নিকোলাস উইন্টনের মহৎ কীর্তি তার অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই প্রথম বিশ্বজুড়ে প্রকাশ পায়। জীবনের শেষভাগে এসে ক্যান্সারে আক্রান্ত র্যান্টজেন যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু বা ‘অ্যাসিস্টেড ডাইং’ আইনি বৈধতা দেওয়ার দাবিতে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সুইজারল্যান্ডের ক্লিনিকে গিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের শেষদিকে ক্যান্সারের যাবতীয় চিকিৎসা বন্ধ করে দেন এই প্রবীণ উপস্থাপিকা।
মানবাধিকার ও জনস্বার্থে নিজের কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘সামাজিক পরিবর্তন আনার চেষ্টাটা এক ধরনের নেশার মতো।’ ২০০০ সালে তার স্বামী ডেসমন্ড উইলকক্সের মৃত্যুর পর তিনি সামাজিক কাজে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। মৃত্যুর সময় তিনি তিন সন্তান এবং বহু অনুরাগী রেখে গেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন