প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কাফরুল থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদন করেন। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে আন্দোলনকারীদের দমনে বিভিন্ন পর্যায়ে হামলা ও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তী সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকায় বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বসে আন্দোলন দমনে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ জুলাই রাত ৮টা থেকে ১২টার মধ্যে কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন নিহত এবং অনেকে আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুনে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২০২৬ সালের জুনে ওই দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। তবে জুলাই আন্দোলনের সময় উত্তরা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় চলতি বছরের ৩০ জুলাই তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে কাফরুল থানায় দায়ের করা আন্দোলনে হতাহতের হত্যা মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিলেন আদালত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন