প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দেশের নাগরিকদের অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি দূর করার লক্ষ্যে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ চোখের ছানি অপারেশন এবং মানসম্মত দৃষ্টিসেবার আওতায় ১ কোটি চশমা বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সময়ে, জাতীয় রেফারেল সুবিধার মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি মানুষকে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্ব চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলনে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তার ভিডিও বক্তব্যে বর্তমান সরকারের এই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। সম্মেলনে তার ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্যটি প্রচারিত হয়। এই বৈশ্বিক সম্মেলনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা সরকারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এই সম্মেলনের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিহীনতা কেবল মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপরও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য চোখের সুস্থ দৃষ্টি অপরিহার্য।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে ড. মুহিত জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ২ কোটি মানুষকে সম্প্রসারিত রেফারেল সুবিধার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা হবে। এছাড়া, দৃষ্টিত্রুটি দূর করতে এক কোটি চশমা বিতরণ এবং একই সময়ে ১০ লাখ মানুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভিডিও বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের চোখ পরীক্ষা এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার। জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি প্রতিরোধ, সচেতনতা তৈরি এবং এর বিস্তার রোধে কাজ চালিয়ে যাব।
নাগরিকদের সার্বজনীন চোখের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে সবার জন্য স্পষ্ট দৃষ্টি বা ‘ক্লিয়ার ভিশন’ নিশ্চিতের এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টা মানব ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন