প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই মাসের ক্ষত এবারও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ শুভর সঙ্গে রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই বিকালে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং নির্যাতন চালিয়ে আহত করে। এখনও তিনি পায়ের ব্যথা নিয়ে কাতরাচ্ছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে অতীতে রাজধানীর রাজপথে আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন হাসান মাহমুদ শুভ, যিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রভাষক আবদুল হাইয়ের বড় ছেলে। আন্দোলনের শুরুর লগ্ন থেকেই তিনি বিভিন্ন মিছিল, স্লোগান ও লেখালেখির মাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। একপর্যায়ে পুলিশের নির্যাতনে তিনি আহত হন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার নিজের অংশগ্রহণ, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান প্রজন্মের প্রতি প্রত্যাশা নিয়ে আমার দেশ-এর সঙ্গে তিনি কথা বলেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুভ বলেন, "অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা আমার কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য ছিল না। যখন দেখেছি মানুষের ন্যায্য দাবির জবাব গুলি, নির্যাতন, হত্যা আর দমন-পীড়নের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে, তখন মনে হয়েছে ঘরে বসে থাকার সময় নয়।" তিনি জুলাইয়ের প্রথম দিক থেকেই রাজপথে আন্দোলন অংশগ্রহণ করতে থাকেন। একই সাথে জনমত গঠনে বিভিন্ন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করেন। ১৬ জুলাই যখন আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে নিজের মাতৃভূমির জন্য জীবন বিলিয়ে দেন, তখন তিনি আরো বেশি অনুপ্রাণিত হন।
আন্দোলনের কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, "ওই সময়ে প্রতিদিনই অনেক কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে ১৯ জুলাই আমি উত্তরা বিএনএস সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে ছিলাম।" এদিন ঢাকার সবচেয়ে বেশি নিহত ও আহতের ঘটনা ঘটে এবং তার চোখের সামনেই কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পিচঢালা রাস্তায় পড়ে যায়। "তখন বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে গুলি করা হয়েছিল। খুবই ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল। কিছু মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল বেঁচে ফেরা অসম্ভব। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ কৃপায় ওইদিন বেঁচে যাই।"
রাজপথের পাশাপাশি লেখালেখির গুরুত্ব সম্পর্কিত তার বক্তব্যে শুভ বলেন, "একটি আন্দোলন শুধু স্লোগানে নয়, চিন্তা ও যুক্তিতে শক্তিশালী হয়। তাই আমি বিশ্বাস করেছি, কলমও এক ধরনের প্রতিরোধ। সত্য তুলে ধরা, মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলা এবং ইতিহাস সংরক্ষণ করাও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এজন্যই লেখালেখি করি।"
কীভাবে আহত হয়েছেন, সেই জবাবে তিনি বলেন, "২৭ জুলাই বিকালে আমি আহত হই। ঢাকা কলেজের সামনে থেকে পুলিশ আমাকে আন্দোলনকারী সন্দেহে আটক করে। তারা আমাকে আন্দোলনকারী বুঝতে পেরে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে বন্দুকের বাঁট দিয়ে আমার হাঁটুতে প্রচণ্ড আঘাত করে জখম করে। সেই আঘাতের চিহ্ন এখনো আমি বয়ে বেড়াচ্ছি।"
বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে নিজের বার্তায় হাসান মাহমুদ শুভ বলেন, "স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র কখনো বিনামূল্যে আসে না। যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ যেন কখনো বিস্মৃতি না হয়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন