প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতের পথে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া নোংরা পানি, বিভিন্ন ভবনের ওপর থেকে পড়া ময়লা পানি, আবর্জনার স্তূপ এবং মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশেও। এই পথে চলাচলকারী বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী এবং সাধারণ মানুষ দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই এলাকার আশপাশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আইনজীবী সমিতি ভবন, আইন কলেজ এবং জেলার বিভিন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জুডিশিয়াল আদালত অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন আইনগত, প্রশাসনিক ও বিচারিক প্রয়োজনে হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। মামলার শুনানি, জামিন, নথিপত্র সংগ্রহ, আইনি পরামর্শ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য এই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার চলাচলের পথে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া দুর্গন্ধযুক্ত পানি এবং আবর্জনা জমে রয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকটি ভবনের ওপর থেকে নোংরা পানি সরাসরি পথের ওপর পড়ছে, যা পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশেও নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে আদালত ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাব জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষকে এসব নোংরা পানি ও আবর্জনা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া, মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষ যত্রতত্র পড়ে থাকার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আদালত ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নোংরা পানি নির্গমনের উৎস চিহ্নিত করা এবং ভবনগুলো থেকে পানি সরাসরি চলাচলের পথে পড়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সেফটি ট্যাংকের উপচে পড়া পানি বন্ধ করা, ভবনের বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ, আবর্জনা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো দরকার।
এ অবস্থায় কক্সবাজারের বিচারক, জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আদালত ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও জনবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হোক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন