প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সোমালিয়ায় চরমপন্থী গোষ্ঠী আল-শাবাবের বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়েছে যে, দেশটিতে নিয়োজিত আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) সামরিক মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন এই সিদ্ধান্তের পর, আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। গত প্রায় দুই দশক ধরে আল-শাবাব বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে সোমালি সরকার। তবে, গোষ্ঠীটি এখনও দেশটির বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন বা ‘অসাম’-ই সোমালি সেনাবাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার প্রধান শক্তি।
এই মিশনে প্রায় ১২,০০০ সৈন্য নিয়োজিত রয়েছে। ১ জুলাই, আফ্রিকান ইউনিয়নকে পাঠানো এক চিঠিতে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে তারা সোমালিয়ায় জাতিসংঘ সহায়তা কার্যালয় বা ইউএনএসওএস-কে অর্থ প্রদান বন্ধ করতে যাচ্ছে। এই সংস্থাটি মূলত অসাম-এর তহবিলের সিংহ ভাগ সরবরাহ করত।
আফ্রিকান ইউনিয়নে নিযুক্ত একজন ঊর্ধ্বতন আফ্রিকান কূটনীতিক চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনীয় এবং এর ফলে সোমালিয়ায় তাদের মিশনের ইতি টানতে হবে। ওয়াশিংটন আরো জানাচ্ছে, তারা নিরাপত্তা পরিষদে অসাম-এর জন্য জাতিসংঘের যেকোনো ধরনের রসদ সরবরাহ সহায়তাও আটকে দেবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে সোমালিয়ায় জাতিসংঘের মিশনগুলোতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার এবং আফ্রিকান সৈন্যদের জন্য ১.৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমালি সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক কোন্দলকে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছে ওয়াশিংটন। চিঠিতে সোমালি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে যে, তারা আল-শাবাবের বিরুদ্ধে অগ্রগতি ধরে রাখতে, নিজেদের নিরাপত্তা কার্যক্রমের দায়িত্ব নিতে এবং নিরাপত্তা খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে সফল হয়নি।
চলতি বছরের শুরুতে সোমালি প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ সংবিধান সংশোধন করে নিজের মেয়াদ আরো এক শ বছর বাড়িয়ে নেন, যা ১৫ মে শেষ হয়েছে। বিরোধী দল ও আঞ্চলিক সরকারগুলো এই মেয়াদ বৃদ্ধি প্রত্যাখ্যান করার কারণে রাজধানী মোগাদিশুসহ দেশের বিভিন্ন অংশে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ ২০২২ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরে আল-শাবাবের বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযান পরিচালনা করে সফল হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীকালে রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে সেই অর্জিত সাফল্যের বেশিরভাগই নষ্ট হয়েছে এবং বিদ্রোহীরা আবারও মধ্য ও দক্ষিণ সোমালিয়ায় তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন