প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) লেবাননের প্রতিনিধি সালাম কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য বা লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনের অধিকারের ওপরই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নির্ভর করছে।
সালাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "আমাদের অঞ্চলে স্থায়ী স্থায়িত্ব না থাকলে লেবাননেও স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। আর যতদিন এই সংস্থা (জাতিসংঘ) বিশ্বের অন্যান্য জাতির মতো ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনে ব্যর্থ থাকবে, ততদিন এই অঞ্চলে কোনো শান্তি আসবে না—কমও নয়, বেশিও নয়।"
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত জাতিসংঘ সংস্থা 'আনরোয়া' (UNRWA)-র তহবিল বন্ধ বা কার্যক্রম সীমিত করার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন সালাম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন, সংস্থাটিকে দুর্বল করা হলেও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আইনগত ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করা যাবে না।
গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে 'ভিটো' (Veto) ক্ষমতার ব্যবহারে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান সালাম। গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধে একাধিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার ভিটো দেওয়ার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
লেবানন সরকারের একক সার্বভৌমত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সালাম স্পষ্ট জানান, যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার কেবল দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের। তিনি উল্লেখ করেন, অস্ত্র থাকবে শুধুই সরকারের হাতে।
তিনি আরও বলেন, "১৯৪৯ সালের সাধারণ যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা পর্যন্ত লেবাননের সম্পূর্ণ ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা আমাদের সকল বন্দির মুক্তি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর পুনর্নির্মাণ এবং নিজ নিজ গ্রামে নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে চাই।"
প্রসঙ্গতঃ ইসরায়েলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের শর্তে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণের একটি চুক্তির কথা উল্লেখ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত উদ্যোগটি বর্তমানে অনেকটাই থমকে রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন