প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০৪৭ সালের মধ্যে গুরুগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর হবে, বিজেপি সাংসদের আশ্বাস
গুরুগ্রাম, যা মিলেনিয়াম সিটি অব ইন্ডিয়া নামে পরিচিত, একসময় একটি ছোট শহর ছিল।
কিন্তু চলতি শতকের শুরুতে, গুরগাঁও নামে পরিচিত এই শহরটি দ্রুত পরিবর্তিত হতে শুরু করে। নগরায়ণ, আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ফলে গুরুগ্রাম এখন একটি চোখ ধাঁধানো আধুনিক শহর হিসেবে পরিচিত। দিল্লি এনসিআর এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে, গুরুগ্রাম বর্তমানে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম করপোরেট ও আইটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফরচুন ৫০০ কোম্পানির ২৫০টিরও বেশি অফিস বা সদর দপ্তর অবস্থিত।
গুরুগ্রামে উচ্চ জীবনযাত্রার মান ও আধুনিক লাইফস্টাইলের জন্য ৪০টিরও বেশি আধুনিক শপিং মল, বিশ্বমানের হাসপাতাল, থিয়েটার কমপ্লেক্স এবং পাঁচ তারকা হোটেল রয়েছে। এখানে জমির দাম বেড়েছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। তবে, সামান্য বৃষ্টিতে সকল উন্নয়ন থমকে যায়। জলাবদ্ধতা এই আধুনিক শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা।
গত সোমবারের কয়েক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে গোটা গুরুগ্রাম জলমগ্ন হয়ে যায়। যানজট এবং জলজটের কারণে শহরটি একরকম নরকে পরিণত হয়।
গুরুগ্রামের মানুষদের কাছে জলাবদ্ধতার সমাধান এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরে, হরিয়ানার বিজেপি সাংসদ ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ধর্মবীর সিং বলেন, ‘২০৪৭ সালের নতুন মাস্টারপ্ল্যানে ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী শহরের উন্নয়ন করা হবে।
তখন সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে।’ যদি তার আশ্বাস সত্যি হয়, তবে গুরুগ্রামের বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতার সাথে বসবাস করতে হবে আরো ২১ বছর। ধর্মবীর সিংয়ের বক্তব্যে কোনো অভাব নেই। তিনি জলাবদ্ধতার জন্য সরকার ছাড়া অন্যদের দায়ী করেন। তার বক্তব্যের তালিকা দীর্ঘ- তিনি বলেন, হঠাৎ এবং ভারী বৃষ্টি হয়, আমরা অনুমান করতে পারিনি গুরুগ্রাম এত বড় হয়ে উঠবে, এখানে অতিরিক্ত মানুষ এবং গাড়ি রয়েছে, ৬০ বছর আগে তৈরি পরিকল্পনাটি অপর্যাপ্ত ছিল, ২০৪৭ সালের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে, সরকারের কোনো দোষ নেই ইত্যাদি।
হরিয়ানার ভিওয়ানি-মহেন্দ্রেগড়ের বিজেপি সাংসদ ধর্মবীর সিং জোর দিয়ে বলেন, ’কর্তৃপক্ষ যানজট এবং জলাবদ্ধতা যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করে। তবে সবকিছু করা সম্ভব নয়।’ তার মতে, ৬০ বছর আগের গুরুগ্রামের পরিকল্পনায় ত্রুটি রয়েছে। যখন পরিকল্পনাবিদরা বুঝতে পারেননি যে শহরটি এই গতিতে বড় হবে। তিনি বলেন, ’আমরা জানতাম না যে এত মানুষ, বাড়িঘর এবং যানবাহন গুরুগ্রামে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্মাণকাজের কারণে পুরোনো ড্রেনগুলো সংকুচিত হয়ে গেছে। আমরা এখন আর সেগুলো চওড়া করতে পারছি না।’ ধর্মবীর সিং বৃষ্টির তীব্রতা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনকেও দায়ী করে বলেন, ‘আজকাল হঠাৎ এবং ভারী বৃষ্টিপাত হয়। জল জমে যায় এবং তা নেমে যেতে সময় নেয়।’ চলতি বছর বর্ষার বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কুল বাস আটকে থাকার মতো ভয়াবহ দৃশ্য শহরবাসী আবারও দেখলেও, এই সাংসদ সরকার এবং প্রশাসনকে দোষারোপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘জল নিষ্কাশনের জন্য আমরা সাধ্যমতো কাজ করি।’
গুরুগ্রামের বিজেপি সাংসদ রাও ইন্দ্রজিৎ সিংও গুরুগ্রামের এই সমস্যার জন্য বিজেপি সরকারের কোনো দায় দেখেন না। বরং তিনি কংগ্রেস আমলের দিকে দোষ ঠেলে দেন, ‘গুরুগ্রামে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা হয়ে আসছে। এর প্রধান কারণ হলো পাহাড় থেকে যমুনায় জল নিয়ে যাওয়ার পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী ড্রেনগুলোর ওপর উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। কংগ্রেস আমলে হওয়া সেই উন্নয়নের খেসারত আমরা আজও দিচ্ছি।’
সমাধানের পথ বাতলেছেন ঈন্দ্রজিৎ সিং, ‘এটি ঠিক করার একমাত্র উপায় হলো পুরোনো ড্রেনগুলোর পথ ধরে মেট্রোর মতো ভূগর্ভস্থ টানেল তৈরি করা, যাতে জলকে সেই আগের পথ দিয়েই প্রবাহিত করা যায়। আমরা বর্তমানে যা করছি তা মূলত একটি সাময়িক জোড়াতালি সমাধান মাত্র। এটি কিছুটা স্বস্তি দেয়, তবে আমরা যদি এক জায়গায় জল আটকে দিই, তবে তা অন্য জায়গায় পথ খুঁজে নেয়। সরকার এটি নিয়ে কাজ করছে এবং আমরা প্রয়োজনীয় ফান্ডের ব্যবস্থা করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন