প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিপদ-আপদ, অসুস্থতা দূরীকরণ কিংবা বদনজর থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় অনেক মানুষ তাবিজ ব্যবহার করেন। ইসলামে তাবিজ পরার বিধান কী, এবং কোরআন-হাদিসের আলোকে আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কী মতামত রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তাবিজ ব্যবহারের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। বিশেষ করে, তাবিজে কী লেখা আছে, এর ব্যবহার কেন করা হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীর বিশ্বাস কেমন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করা, দোয়া করা এবং কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে তাবিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
কোরআন-হাদিসে তাবিজের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, তা জানা প্রয়োজন। হাদিসে তাবিজ ও ঝাড়ফুঁক সম্পর্কিত কিছু পদ্ধতির বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তাবিজ ও অনুরূপ বিষয় সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। এই হাদিসটি সুনান আবু দাউদসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে উল্লেখিত।
অন্যদিকে, সহিহ হাদিসে শিরকমুক্ত ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়া করার অনুমতি রয়েছে। সহিহ মুসলিমে উল্লেখ রয়েছে, শিরক না থাকলে রুকইয়া করতে কোনো অসুবিধা নেই। এ থেকে প্রতিভাত হয় যে, কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী দোয়া ও রুকইয়ার বৈধতা এবং তাবিজ ঝুলিয়ে রাখার বিধান এক নয়।
কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ কি জায়েজ?
কোরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা তাবিজ ব্যবহারের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু আলেম এ ধরনের তাবিজকে নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদন করেছেন, অন্যদিকে কিছু আলেম সাধারণ নিষেধাজ্ঞা ও অপব্যবহারের আশঙ্কার কারণে তা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে, যদি তাবিজে শিরকপূর্ণ বাক্য, জিনের সাহায্য চাওয়ার বিষয়, অজানা মন্ত্র অথবা ইসলামবিরোধী কিছু থাকে, তাহলে তা ব্যবহার করা বৈধ নয়। তাবিজ নিজে স্বাধীনভাবে উপকার বা ক্ষতি করতে পারে—এমন বিশ্বাসও ইসলামের তাওহিদের শিক্ষার পরিপন্থী।
তাবিজের পরিবর্তে কী করা যেতে পারে?
ইসলামে সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী কিছু আমল রয়েছে। যেমন—
তাহলে তাবিজ পরা কি জায়েজ?
সব ধরনের তাবিজকে একই বিধানের আওতায় ফেলা ঠিক নয়। তাবিজে কী রয়েছে এবং তা কী বিশ্বাসে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর বিষয়টির শরয়ি মূল্যায়ন নির্ভর করে। শিরকপূর্ণ বা অজানা মন্ত্রযুক্ত তাবিজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। আর কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজের ক্ষেত্রে আলেমদের মতপার্থক্য থাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বিশ্বস্ত যোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন