প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বড় বোনের মারধরের খবর পেয়ে ছোট বোন ময়না আক্তার বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন। ঘটনাক্রমে, হামলার সময় বড় বোনের বাড়িতে হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করলে, তিনি প্রতিপক্ষের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। পেটে লাঠির আঘাতের ফলে ময়না আক্তার তিন মাসের গর্ভের সন্তান হারান। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা এলাকায় গত ১৭ জুলাই হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের নতুনবাজার গ্রামের আব্দুল জলিল খানের চারটি মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে পারভিন বেগম (৪৬) কয়েক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা এলাকায় জমি কিনে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। স্বামী না থাকার কারণে তিনি একা থাকেন এবং মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী মজিবর, মোজাফফর, বাবলু এবং শহীদসহ কয়েকজন বিভিন্ন সময় ওই জমিটি দখল করার জন্য অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সবশেষ শুক্রবার (১৭ জুলাই) মজিবর ও মোজাফফরের বিরুদ্ধে বড় বোন পারভিন বেগমের ওপর হামলার খবর পেয়ে ছোট বোন ময়না আক্তার দ্রুত সেখানে ছুটে যান। হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার চেষ্টা করার সময় ময়না আক্তারের ওপরও হামলা চালানো হয় মজিবর ও তার সহযোগীদের দ্বারা।
এই সময় ময়না আক্তার জানান, তার পেটে তিন মাসের শিশু রয়েছে এবং বাঁচার আকুতি জানানোর পরও নির্যাতন থামেনি প্রতিপক্ষের। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ময়না আক্তারকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার গর্ভপাত ঘটে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সদরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়না আক্তার বলেন, ‘হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে গেলে তারা আমার ওপরও হামলা চালায়। পেটে তিন মাসের সন্তান রয়েছে বলার পরও তারা নির্যাতন চালিয়েছে। আমার পেটে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমার পেটের সন্তানের মৃত্যু হয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
বড় বোন পারভিন বেগম জানান, ‘আমার জমি দখল করার জন্য প্রতিনিয়ত ওরা আমাকে মারধর ও হুমকি দেয়। আমার স্বামী না থাকায় অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আমার ওপর হামলা চালানাে হচ্ছে। স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বলেও কোনো সমাধান পাইনি। আমাকে তো মারছেই, মারধর করার সময় আমি হাতজোড় করে বলেছিলাম আমার বোনের পেটে সন্তান রয়েছে, তাকে মারিস না। কিন্তু তারা শোনেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোনের স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। কয়েক মাস আগে দেশে এসেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই চলে যাবেন; আর এ অবস্থায় এ ঘটনা ঘটালো ওরা। থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমরা যা উল্লেখ করেছি, পুলিশ তা নেয়নি।’
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সামনে মেঝেতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায় ময়না আক্তারকে। হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স মিনতি সরকার জানান, আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ময়না আক্তারের গর্ভপাত হয়ে গেছে।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। তবে মামলায় ভ্রূণ নষ্টের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার জন্য তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এ বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এই বিষয়ে হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন