বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৫৯ পি.এম
চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর দুর্গম এলাকায় একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ক্যাম্পটির আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের বিশেষ ত্রাণ ও মেডিকেল টিম।
মূলত চট্টগ্রামের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল হসপিটালের নির্বাহী পরিচালক ডা. মো. আবু নাছেরের নেতৃত্বে দুর্গত মানুষদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদের সরবরাহের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা হয়েছে। বাঁশখালীর জলদী, সরল, বাহারছড়ি ও ইলশাসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় এই মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ত্রাণ কর্মসূচি এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
ডা. আবু নাছের বলেছেন, অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ও সড়ক নির্মাণের কারণে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথে অনেক অংশে বাঁধা পড়েছে। এছাড়াও, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কালভার্ট এবং কার্যকর স্লুইস গেটের অভাবে সামান্য অতিবৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।
এই সময়, তিনি জানান, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর সঙ্গে সঙ্গে চান্দগাঁও এবং বোয়ালখালী সহ অন্যান্য বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মেডিকেল ক্যাম্প চালানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ নিজেদের এলাকা থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে রোগী ও স্বজনদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দালালির অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করেছে র্যাব-১৪।
র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অসহায় রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আটক ১৪ জনের মধ্যে চারজন এর আগেও একই অভিযোগে দুইবার করে আটক হয়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তারা আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হাসপাতাল এলাকায় দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে মো. স্বপন মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়ে গেছেন। এ ঘটনার পর তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
নিখোঁজ ওই যুবক কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ নসরুদ্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মোস্তাক মিয়া এবং মাতা শাহানারা বেগম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টার সময় পল্টন থানাধীন সাব্বির টাওয়ারের সামনে থেকে স্বপন মিয়া নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
এ ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও স্বপন মিয়ার সন্ধান পেলে দ্রুত জানানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
কেউ যদি মো. স্বপন মিয়ার সন্ধান পেয়ে থাকেন বা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তাহলে তার ভাই রিপন হোসেনের মোবাইল নম্বর ০১৭৫৮-২৭১২৪৮-এ যোগাযোগ করার জন্য পরিবার পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়ালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে কেওড়া বাগানে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। তবে মরদেহটি উদ্ধারে পুলিশ ও নৌ পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের হাসি মার্কেট সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেওড়া বাগানে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বেলা ১১টার দিকে জোয়ারের পানির সঙ্গে মরদেহটি ভেসে এসে কেওড়া বাগানে আটকে থাকে। দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে মরদেহটি অর্ধগলিত হয়ে গেছে। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি দেখে পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও মরদেহটি উদ্ধার করা হয়নি। এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ মরদেহ উদ্ধারে দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহটি পড়ে আছে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন নৌ পুলিশ কেন্দ্রের ইনচার্জ আশিকুর রহমান বলেন, তারা বিষয়টি মাত্র জানতে পেরেছেন। খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তবে ঘটনাস্থলটি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় এটি নৌ পুলিশের আওতাধীন। খবর পেয়ে নৌ পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যায়। তবে বাগানটি সড়ক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এবং বাগানে জোয়ারের পানি থানায় মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। তবে শুক্রবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় খালে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে চার মাদ্রাসাছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনার পর এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, দুপুরে উপজেলার চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত চারটি শিশুর নাম হলো- বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯), রুবেল মিয়ার অন্য একটি মেয়ে জান্নাত (৮) এবং বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১০)। তারা সবাই বড়কান্দা গাউসিয়া নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্র এবং হাসপাতালে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, মাদ্রাসার টিফিন বিরতির সময় ছয় শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশে একটি খালে গোসল করতে নামে। সাঁতার না জানা এবং খালের গভীরতা সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় মুহূর্তের মধ্যে চারজন সেখানে পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় অপর দুই শিক্ষার্থী পাড়ে উঠে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে চারজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চার শিশুর মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অপর একজন শিশুর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের হাতে সরকারি তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা।
একমাত্র মেয়ে তাবিয়াকে হারিয়ে শোকাপন্ন বাবা শামীম মিয়া জানান, সকালে মেয়ে তাবিয়াকে রেখে কাজের উদ্দেশ্যে তিতাস ট্রেন ধরতে রায়পুরা বাজারে এসেছিলেন। বাজারে পৌঁছানোর পর বাড়ি থেকে ফোনে জানতে পারেন, তার মেয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। এরপর তিনি আর ট্রেনে উঠতে পারেননি, দ্রুত হাসপাতালে চলে আসেন।
রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নাজমুল হাসান জানান, খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তিন শিশুর মরদেহ প্রত্যক্ষ করেন। অন্য শিশুর মরদেহ বাড়িতে রাখা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া হস্তান্তরের আবেদন করা হয়েছে।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুর রহমান জানান, দুপুর ১টার দিকে তিন শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতাল পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে কারও শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা হৃদস্পন্দন পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ