প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোববার পুনরায় চালু করা হয়েছে, যদিও ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। বিমানবন্দরটি গত ১০ অক্টোবর থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বন্ধ ছিল। ১০ অক্টোবর হুথিদের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানে, যার ফলে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। চলতি মাসে বিমানবন্দরটিতে হুথিদের চালানো অন্তত তিনটি প্রাণঘাতী হামলার মধ্যে এটি অন্যতম। হুথিরা প্রায় প্রতিদিনই রিয়াদে হামলা চালাচ্ছে।
শনিবার রাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার থেকে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হবে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে টিকিট ও ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে রাজধানীর বাসিন্দাদের কাছে সম্ভাব্য ‘আকাশপথের হুমকি’ সম্পর্কে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকটি বিকট শব্দ শোনার কথা জানান। সৌদি কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, "এটি একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু।" তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ফলে যে পরিণতি হবে, তার দায়ভার সৌদি সরকারকেই বহন করতে হবে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
চার বছর মোটামুটি শান্ত থাকার পর, এ মাসের শুরুর দিকে হুথি ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর পুনরায় হামলা শুরু করেছে। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ইরান—যারা হুথিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক—তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বৃহত্তর সংঘাত চলছে। হুথিরা তাদের হামলাগুলোকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইয়াহইয়া সারি দাবি করেন যে, তাদের গোষ্ঠী বিমানবন্দরটিতে একটি অভিযান চালিয়েছে। তিনি দেশের অন্যান্য স্থানে হামলার কথাও উল্লেখ করেন, তবে ঠিক কখন এসব হামলা হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। রোববার রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে কতটি ফ্লাইট ছেড়েছে বা সেখানে অবতরণ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দা থেকে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ রোববার বিকেলে রিয়াদে অবতরণ করে, তবে রিয়াদ থেকে আসা-যাওয়া করা কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।
এক দশক আগে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন বোমা হামলা অভিযান শুরু হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে পরাজিত করা এবং সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়, যার ফলে ইয়েমেনে সহিংসতা, ক্ষুধা ও রোগের কারণে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। ২০২২ সালের একটি যুদ্ধবিরতির ফলে ভঙ্গুর শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে হামলার পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে, যা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। জুলাই মাসে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে, তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে, যাতে ইরানের একটি বিমান সেখানে অবতরণ করতে না পারে। পরবর্তী সময়ে হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে অবরোধ ঘোষণার পাশাপাশি দেশটির বিমানবন্দরগুলোকে ‘সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র’ বানানোর হুমকি দেয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে পুরোদমে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে, হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করে।
সম্প্রতি রিয়াদকে কেন্দ্র করে নতুন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা চালু করেছে সৌদি আরব। সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল দেশটির বার্ষিক বিনিয়োগ সম্মেলন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনকুবের, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সম্মেলনটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
এর আগে হুথিদের হুমকি সত্ত্বেও সৌদি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। দুটি প্রাণঘাতী হামলার পরও কর্তৃপক্ষ রিয়াদ বিমানবন্দর খোলা রেখেছিল; তবে ১ অক্টোবরের বড় ধরনের হতাহতের ঘটনার পর তারা বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়। সব মিলিয়ে, বিমানবন্দর চালুর মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর চেষ্টা করলেও রিয়াদের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
চার বছরের বিরতির পর ফের সংঘাত
সৌদির অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ
এমএমআর
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন