প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি নৌ-অবরোধের পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশেষ এবং গোপন নৌপথ চালু করেছে। এই নতুন পথ, যা ওমানের উপকূল ঘেঁষে তৈরি হয়েছে, ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার দাবি করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দ্য জেরুজালেম পোস্ট এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই গোপন অভিযানে কাজ চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে, প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশের এই বিকল্প পথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপন এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রবেশ করছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু হওয়ার আগে এই প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হতো, বর্তমানে সরবরাহ তার প্রায় অর্ধেক।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সাম্প্রতিক একটি সামরিক অভিযানে ইরানের রাডার এবং সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার পরই এই নৌপথটি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে বলে কর্মকর্তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্যমতে, নজরদারি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ইরানি বাহিনী এখন নির্দিষ্ট গতিপথ দেখতে পারছে না, এবং তাই জাহাজ চলাচলের সাধারণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে নির্বিচারে ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শুধু তেলভর্তি ট্যাংকারকে প্রণালি পার হতেই সাহায্য করছে না, বরং খালি জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করার পর তেল সংগ্রহ করে সেগুলো নিরাপদে বের করে আনতেও সুরক্ষা দিতে অব্যাহত রয়েছে। এই জাহাজের বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা প্রতিরোধে কাজ করছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশের এই পথ তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এখন মূল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মার্কিন বাহিনীর হাতে।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও গোপন এই নৌপথের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। শিপ ট্র্যাকিং সাইট 'কেপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৯টি জাহাজ পার হতে দেখা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন