প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় নতুন দাবি নিয়ে সামনে এসেছেন অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর বাবা। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে ধারণা করেছে, কেতন আগরওয়ালের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী পরিকল্পিতভাবে প্রথমে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন এবং পরে ৪০০ ফুট ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন, ফলে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা বর্তমানে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।
এদিকে, চেতন চৌধুরীর বাবা বাবুলাল চৌধুরী দাবি করেছেন, এই ঘটনায় তার ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সিয়া গোয়েল নিজে বাঁচার জন্য তার ছেলেকে ফাঁসাচ্ছে। বাবুলাল চৌধুরী বলেন, সিয়ার সঙ্গে চেতনের প্রেমের সম্পর্কের যে কথা বলা হচ্ছে, তা তিনি জানতেন না। তিনি অভিযোগ করেন যে, থানায় যাওয়ার আগে তিনি কখনো সিয়ার নাম শোনেননি কিংবা দেখেননি।
পুলিশ রিমান্ডে থাকা চেতন চৌধুরীর সঙ্গে থানায় দেখা করতে তার পরিবারের সদস্যরা আসে। চেতনের বাবা জানিয়েছেন, চেতন তাদের জানিয়েছে যে, ঘটনার সময় তিনি বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু চেতন কেন ওই সময় লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর বাবার কাছে নেই। চেতনও তাদের এ বিষয়ে কোনো কথা বলে নি। বাবুলাল চৌধুরী পুনেতে একটি দোকান চালান এবং তিনি দাবি করেন, ‘আমার ছেলে মোটেই এমন নয়। সে নিয়মিত দোকানের কাজে আসত।’
চেতনের চাচা উদয়রাম চৌধুরীও তার ভাতিজাকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘চেতন একজন খেলোয়াড় এবং সব সময় সরাসরি কথা বলার মানুষ। বাজারে বা এলাকায় কেউ কখনো তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কেউ চেতনের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানত না।’ থানায় মাত্র এক মিনিটের জন্য চেতনের সঙ্গে কথা বলে তারা, এবং কাঁদতে কাঁদতে চেতন তাদের বলেছে যে, তিনি নির্দোষ, এবং তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
চেতনের আইনজীবী রাম সাহানেরও দাবি, তার মক্কেল নির্দোষ। তিনি বলেন, ‘এফআইআরে কথিত অপরাধে তার (চেতন) ভূমিকার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রধান আসামির প্রেমিক, শুধুমাত্র এ ভিত্তিতেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
এছাড়া পরিবার ও আইনজীবীর দাবির সঙ্গে polisi এর তদন্তের কোনো মিল নেই। গত ১৮ জুন কেতন আগরওয়াল পুনের লোহাগড় দুর্গ থেকে পড়ে মারা যান। তাঁর সাথে থাকা বাগদত্তা সিয়া গোয়েল পুলিশ ও পরিবারকে বলেন, কেতন ছবি তোলার সময় পড়ে গেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা মনে হলেও পরে পরিবার ও পুলিশ নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারে যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ায় ঘটনার ৫ দিন পর গত ২৩ জুন সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন পুনের একটি আদালত নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উভয়কে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠান।
গত বছরের নভেম্বর থেকে সিয়া ও চেতন প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিকভাবে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়ার বাগদান হয়। তাদের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল আগামী নভেম্বরে জমকালো অনুষ্ঠানের জন্য। এজন্য জয়পুরে ১৭ কোটি টাকায় একটি প্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল এবং অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য দুটি বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন মিলে তাদের প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো কেতনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে তা বাস্তবায়ন করেন।
মোবাইল কল রেকর্ড পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায় যে, গত ৭ মাসে সিয়া ও চেতন ২ হাজার ৪ বার টেলিফোনে মোট ২৩৮ ঘণ্টা কথা বলেছেন। সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশ দেখেছে, ঘটনার দিন সিয়া ও কেতনকে ২০-৩০ ফুট পেছন থেকে হুডি পরা এক যুবক অনুসরণ করছিল। সেই যুবক চেতন। ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ট্র্যাকিং ট্রেইলে হুডি পরে থাকার সন্দেহ থেকেই পুলিশ চেতন পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে।
পুনের (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার সন্দ্বীপ সিং গিল জানান, ১৮ জুন সকালে পুনের একটি ক্যাফেতে সিয়া ও চেতন বৈঠক করেছেন। পুলিশের ধারণা, সকালের বৈঠকে সিয়া ও চেতন মিলে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন এবং ঠিক কোন জায়গা থেকে তাকে ফেলে দেওয়া হবে, তা ঠিক করেন। বহুল আলোচিত এই মামলার তদন্ত সম্পর্কে সন্দ্বীপ গিল বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে সব সূত্র এক সুতায় গাঁথার পর সিয়া ও চেতনের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে এসেছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন