প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরে বিয়ের আসর বসার পরিকল্পনা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তরুণ যুগল গ্যাভিন হিঙ্কলি এবং ম্যাডেলিন ফক্স ভবিষ্যৎ সংসার নিয়ে হাজারো স্বপ্ন দেখছিলেন। বিয়ের জন্য প্রস্তুতি, কেনাকাটা এবং নতুন জীবনের পরিকল্পনায় তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তে সবকিছু এলোমেলো করে দেয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার বোমন্ট এলাকায় বিয়ের প্রস্তুতি উপলক্ষে কিছু কাজ সম্পন্ন করতে বের হয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী গ্যাভিন এবং তার ২০ বছর বয়সী বাগদত্তা ম্যাডেলিন। সেই সময় দায়িত্ব পালনরত একটি শেরিফ ডেপুটির দ্রুতগতির গাড়ি তাদের টেসলা গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গ্যাভিন নিহত হন। যা ঘটে তারপর ম্যাডেলিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়, যিনি দুর্ঘটনার পর থেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ঘটনার প্রায় নয় মাস পর তদন্তের ফলাফলে রিভারসাইড কাউন্টির শেরিফ অফিসের ডেপুটি গ্লিন উইলবার্নের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, গুলির ঘটনার একটি কল পেয়ে উইলবার্ন জরুরি সাড়া দিতে যাচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পূর্বে ডিসপ্যাচ থেকে জানানো হয়েছিল যে, ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যে পুলিশ উপস্থিত হয়েছে, সন্দেহভাজন গাড়িটি সরে গেছে এবং কোন হতাহতের খবর নেই। এর পরেও তিনি গাড়ির সাইরেন ও জরুরি বাতি চালু রাখেন এবং ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মাইল গতিতে গাড়ি চালান।
প্রসিকিউটরের অভিযোগ, একচল্লিশেস্রেতে লাল সিগন্যাল অমান্য করে তিনি একটি চৌরাস্তার মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং ঘণ্টায় প্রায় ৭১ মাইল গতিতে গ্যাভিন ও ম্যাডেলিনের গাড়িতে আঘাত করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সংঘর্ষের কয়েক সেকেন্ড আগে তিনি গাড়ির গতিবিধি কমানোর চেষ্টা করলেও দুর্ঘটনা এড়াতে পারেননি।
থেমে গেছে একটি সম্ভাবনাময় ভালোবাসার গল্প। গ্যাভিন এবং ম্যাডেলিনের পরিচয় ২০২২ সালে। বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের সম্পর্ক ছিল গভীর আস্থার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। ম্যাডেলিনের ১৮তম জন্মদিনে গ্যাভিন গোলাপ নিয়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন, এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের একসাথে পথচলা।
ঘোড়ায় চড়ার মতো অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে অফ-রোড ভ্রমণ, সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছুর মধ্যেই তারা ছিল একে অপরের সঙ্গী। পরিবারের সদস্যদের মতে, গ্যাভিন ছিলেন এমন একজন, যিনি আশপাশের সকলকে আপন করে নিতে পারতেন। তার স্বপ্ন ছিল ম্যাডেলিনের সাথে একটি সুন্দর সংসার গড়ে তোলা। ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর তাদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই নির্মম দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
গ্যাভিনের বাবা-মা লরেন এবং কোরি হিঙ্কলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “গ্যাভিন শুধু একজন ভুক্তভোগী নয়, তিনি আমাদের ছেলে, একজন ভাই, বাগদত্তা, নাতি এবং অসংখ্য মানুষের প্রিয় বন্ধু ছিলেন। গ্যাভিনের সামনে পুরো জীবন ছিল কিন্তু মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যায়। গ্যাভিনের আজও আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল।”
ন্যায়বিচারের লড়াই চলেছে। দুর্ঘটনার পর কেবল ফৌজদারি মামলা নয়, পৃথক হয়ে দেওয়ানি মামলা দিয়েছেন দুই পরিবার। মামলায় অভিযুক্ত ডেপুটির পাশাপাশি রিভারসাইড কাউন্টির এবং সম্পর্কিত কয়েকটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকেও দায়ী করা হয়েছে।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবাদানেও অবহেলা ছিল। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে যে, গুরুতর আহত গ্যাভিন ও ম্যাডেলিনকে চিকিৎসা ও হাসপাতালে নেওয়ার বলয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
ম্যাডেলিনের বাবা-মা বলেন, “এটি কেবল একটি দুর্ঘটনার মামলা নয়, এটি জবাবদিহিতার প্রশ্ন। গ্যাভিন এবং ম্যাডেলিন তাদের স্বপ্নের জীবন গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল। সেই সুযোগ তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ডেপুটির সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।
গ্যাভিন এবং ম্যাডেলিনের এই জীবনের গল্প একটি সাধারণ দিনের কেনাকাটা যে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে, তার বেদনাদায়ক উদাহরণ। যে দিনটি ছিল নতুন জীবনের প্রস্তুতির অংশ, সেটিই হয়ে উঠল তাদের ভালোবাসার গল্পের সবচেয়ে করুণ অধ্যায়।
সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন