প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরা, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার আশাশুনির কাদাকাটি ইউনিয়নের বৈরামপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
জোয়ার-ভাটার অব্যাহত স্রোতে গত কয়েক মাসে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট চর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুটের মধ্যে চলে এসেছে ভাঙন।
ফলে যেকোনো সময় বেড়িবাঁধ ও পিচঢালা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এতে শুধু কাদাকাটি নয়, কুল্যা ও দরগাহপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী তালা উপজেলার কয়েকটি গ্রামও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পানিতে প্লাবিত হলে হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের, কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী মানুষের।
জানা যায়, বেতনা নদীর তীরঘেঁষা বেড়িবাঁধটি বর্তমানে একটি কার্পেটিং সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়কটি উত্তর দিকে কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি সেতু এবং দক্ষিণ দিকে কাদাকাটি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে সড়কসংলগ্ন চর ক্রমেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে সড়ক থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র ৪০/৪৫ ফুট।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাঙন স্থলের কিছু অংশে নদীর চর প্রায় ২৫/৩০ ফুট গভীর হয়ে গেছে। ফলে সামান্য অংশ ভেঙে পড়লেই সড়কটি নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈরামপুর জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রতিদিনই নতুন করে মাটি ধসে নদীতে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ভাঙন এখন সড়কের একেবারে কাছে চলে এসেছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে শুধু তিন ইউনিয়ন নয়, তালা উপজেলারও বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সড়ক থেকে মাত্র ৬/৭ ফুট দূরে ভাঙন চলে এসেছে। ভাঙনের গভীরতাও অনেক বেশি।
আর সামান্য অংশ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ভাঙনস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।
এর কয়েকদিন পর একজন সার্ভেয়ার এসে ভাঙনস্থল পরিমাপ করেও যান। তবে এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও ভাঙন প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাজকিয়া বাসসকে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বাসসকে বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি শুনেছি। স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন