প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে পারমাণবিক জ্বালানি খাতের রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সরবরাহে অস্ট্রেলিয়ার সামনে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগ রয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এটি তিনি বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে প্রকাশ করেন।
ভারতের বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মোদি আগামী বছরগুলোতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিশ্বের মোট ইউরেনিয়ামের প্রায় ২৮ শতাংশ মজুদ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। তবে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও আইনি জটিলতার কারণে ভারতে ইউরেনিয়ামের রপ্তানি এতদিন বাধাগ্রস্ত ছিল।
মেলবোর্নে এক ব্যবসায়িক ফোরামে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের আগে মোদি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপুল ইউরেনিয়াম মজুদ ভারতের পারমাণবিক যাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’
মোদি আরও বলেন, ‘এই খাতে আমাদের সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।’
অনুষ্ঠানে দুই নেতা কিছু সময়ের জন্য বক্তব্য থামিয়ে একসঙ্গে সেলফি তোলেন। সেখানেও আলবানিজ হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন।
অলাবনিজের আগে মোদি ‘দ্য বস’ বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং রসিকতা করে মন্তব্য করেছিলেন, মার্কিন রক সংগীত তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিনের চেয়ে মোদি বড় জনসমাগম টানতে পারেন।
বৃহস্পতিবার দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের জন্য মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আলবানিজ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনার নেতৃত্ব ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, দেশটিতে মোদির সমর্থকও বেড়েছে।
গত বছরের জুনে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইতিহাসে প্রথমবার বিদেশে জন্ম নেওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী এসেছে ভারত থেকে।
অস্ট্রেলিয়া ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউটের টিস্তা প্রকাশ এএফপিকে বলেন, ‘২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায় তুলনামূলকভাবে কম ছিল।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু ২০২৬ সালে এটি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় প্রবাসী সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে। তারা সংখ্যা অনুযায়ী ব্রিটিশদেরও ছাড়িয়েছে। এটি জনসংখ্যার দিক থেকে বড় পরিবর্তন।’
বৃহস্পতিবার দিনের শেষে মেলবোর্নের একটি স্টেডিয়ামে প্রবাসী ভারতীয়দের সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মোদির। আয়োজকদের ধারণা, সেখানে ২০ সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত হতে পারেন।
তবে মোদির এই সফরকে ঘিরে বিরোধিতাও দেখা যাচ্ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ভারতে বিপজ্জনক ধরণের হিন্দু জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া জানিয়েছে, তারা স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি হলো, ভারতে সংখ্যালঘু জনগণের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি তারা তুলে ধরবে।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় অভিবাসনবিরোধী আরেকটি বিক্ষোভের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে মোদির নিউজিল্যান্ড যাওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন