প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অপরাধের দায়ে একজন ব্যক্তি শাস্তি পেলেও কারামুক্তির পর স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার সুযোগ তার মৌলিক অধিকার। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কারাবন্দিদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর ‘উদ্যোক্তা তৈরি’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় কারাগারে অবস্থানরত বন্দিদের বিভিন্ন হস্তশিল্প ও উৎপাদনমুখী কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, জেলা কারাগার পরিদর্শনকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লক্ষ্য করেন যে, সেখানে ব্যবহৃত সেলাই মেশিনগুলো ছিল পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ প্যাডেলচালিত। এসব মেশিনে সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা বেশ কষ্টসাধ্য হওয়ায় আগ্রহী অনেক বন্দি যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারছিলেন না।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কারাবন্দিদের অলস সময়কে উৎপাদনমুখী কাজে লাগানোর লক্ষ্যে তিনি অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি, পটুয়াখালীকে দুটি আধুনিক ডিজিটাল সেলাই মেশিন ক্রয়ের নির্দেশনা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কারাবন্দিদের সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি ডিজিটাল সেলাই মেশিন হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় এর আগে কারাবন্দিদের ঝাড়ু তৈরির প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে সাতজন কয়েদি নিয়মিতভাবে ঝাড়ু তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কারাবন্দিদের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কাজে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং কারামুক্তির পর সমাজের মূলধারায় পুনঃসম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম কারাবন্দিদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতা হ্রাস এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন