প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরৎ শুভ্রতা এবং শিউলি ফুলের সুবাসের মধ্যে মায়াময়ী মায়ের আগমন ঘটেছে। আজ শুক্রবার মহাষষ্ঠী তিথি থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে, যা দেবী দুর্গার অসুরবিনাশিনী রূপে মর্ত্যে পদার্পণের মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে। দেশের প্রতিটি মন্দির ও মণ্ডপ ‘রূপং দেহি, যশো দেহি, জয়ং দেহি, দ্বিষো জহি’ মন্ত্রে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
পঞ্জিকামতে, দেবীপক্ষের পঞ্চমী তিথি অতিক্রম করে আজ মহাষষ্ঠী শুরু হয়েছে। সূর্যোদয়ের পর কল্পারম্ভ ও বোধনের মাধ্যমে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, যেখানে বোধনের অর্থ হলো জাগরণ বা চৈতন্য প্রাপ্তি।
আজ সন্ধ্যায় দেবীর বোধন ও ঘট স্থাপনের জন্য ধূপের সুবাস, পঞ্চপ্রদীপের আলো, ঢাক-কাঁসরের বাদ্য এবং শঙ্খ ও উলুধ্বনির যুগলবন্দি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রোববার সকালে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভে দেবীর আমন্ত্রণ, অধিবাস ও মূল পূজা শুরু হবে।
এদিকে, পূজার আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগও দেখা দিয়েছে ভক্তদের মধ্যে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূজার দিনগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সকল বাধা পেরিয়ে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপনের জন্য প্রার্থনা করছেন সর্বস্তরের মানুষ।
যশোর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবারের দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে যশোর শহরের লালদীঘির পূর্বপাড়স্থ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা জানান, এ বছর জেলার ৮টি উপজেলায় গত বছরের তুলনায় ৩৩টি বেড়ে মোট ৭৪১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭০টি, অভয়নগরে ১৩২টি, মণিরামপুরে ১০৩টি, কেশবপুরে ১০১টি, বাঘারপাড়ায় ৯২টি, ঝিকরগাছায় ৫৯টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩১টি মণ্ডপ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ৭৩৩টি, ২০২৪ সালে ৬৫২টি এবং ২০২৫ সালে ৭০৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টায় ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভে দেবীর বোধন এবং বিকেল ৫টায় পূজা শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর সকাল ৫টায় মহাষষ্ঠীর বিহিত পূজা এবং সায়ংকালে আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৫টায় মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ অক্টোবর সকাল ৫টায় মহাঅষ্টমী পূজা, সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারী পূজা এবং সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা সম্পন্ন হবে। এছাড়া ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর সকাল ৬টায় দশমী পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গা সমস্ত অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক। এ বছর দেবীর আগমন ঘটছে ঘোটকে (ঘোড়ায়), যার ফল ‘ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’ অর্থাৎ অগোছালো ও অশুভ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তবে দেবী কৈলাসে প্রস্থান করবেন নৌকায়, যার ফল হিসেবে ‘নৌকায়াং শস্যবৃদ্ধি জলবৃদ্ধিশ্চ’ অর্থাৎ সমৃদ্ধি, সুবৃষ্টি ও শস্যপূর্ণ পৃথিবীর শুভবার্তা পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ জানান, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দেবী দুর্গার সঙ্গে অসুর যেমন সর্বদাই যুদ্ধে লিপ্ত, তেমনই মানবের দৈবী সত্তা ও মনুষ্যত্ববোধের সঙ্গে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য—এই ছয় আসুরিক রিপুর লড়াই চলছে। মহাশক্তি জগন্মাতার শরণাগত হলে এসব রিপু থেকে মুক্তিলাভ করে মানুষের ভেতর দৈবী সত্তার জাগরণ ঘটে।
তিনি সকলকে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন