প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার দৌলতখানে কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠজুড়ে চলছে চারা রোপণ এবং চারা পরিচর্যার কাজ। বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে কিছুটা বেশি লাভের আশায় এখানকার কৃষকেরা সবজিতে স্বপ্ন বুনছেন।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকরা লালশাক, বরবটি, পালং শাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, তিতা করলা, বেগুন, পাতাকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন। তারা আশা করছেন, তিন থেকে চার সপ্তাহ পর এসব সবজি বাজারজাত করতে পারবেন।
কৃষকরা সকালে ঘুম থেকে উঠে জমিতে হাল চাষ, চারা রোপণ, খেতে পানি দেওয়া এবং আগাছা পরিষ্কার করার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের প্রস্তুতি শুধু নিজেদের চাহিদার জন্য নয়, বরং বাণিজ্যিকভাবে শীতের সবজি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পাঠানোর জন্যও চলছে।
সৈয়দপুর ইউনিয়নের চরশুভী গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগাম চাষ করলে বাজারে চাহিদা বেশি থাকে। তাই মুনাফা অনেক বেশি হয়। কৃষকেরা বর্তমানে উচু জমিতে সবজি চাষে মনোনিবেশ করছেন। চরশুভী গ্রামের কৃষকরা দীর্ঘকাল ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন। এখানকার সবজি পাইকারি বিক্রেতারা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যান।
কৃষক শফিউল্লাহ জানান, "ছোটবেলা থেকে বাবার সঙ্গে সবজি চাষ করি। প্রতি বছর তিন থেকে চার খানি জমিতে সবজি চাষ করি। গত বর্ষা মৌসুমে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ মৌসুমে আগাম সবজি বাজারে পাঠাতে চাই। ফলন ভালো হলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো।"
কৃষক লিটন বলেন, "গত মৌসুমে সবজি চাষ করে লোকসানে পড়েছি। এ মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেছি। কয়েক সপ্তাহ পর বাজারে বিক্রি করতে পারবো। আশা করি, আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে।"
কৃষক মনির জানান, "চলতি মৌসুমে জমিতে মুলা, বেগুন, সিম, বাঁধাকপি ও ফুলকপি লাগিয়েছি। এতে সব মিলিয়ে আমার দুই লাখ টাকার মত ব্যয় হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবং ফলন ভাল হলে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারব।"
দৌলতখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম ইনকিলাবকে বলেন, "উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা এখন শীতকালীন সবজি চাষ করছেন। কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি ফলন ভালো হলে কৃষকরা গত মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন