প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সকল পাঠ্যপুস্তক ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।
কমিটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে প্রবিধানমালা তৈরির তাগিদও দিয়েছে। একইসঙ্গে, ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরকারী নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, মো. জাহান্দার আলী মিয়া, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মো. মুজিবুর রহমান ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের শুরুতে আগের সভার কার্যবিবরণী সংশোধনীসহ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন ও নিশ্চিত করা হয়। পরে দেশের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।
সভায় সংসদীয় কমিটি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে, হজযাত্রী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, সরকারের কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের সুপারিশ করেছে কমিটি।
এনটিআরসিএ কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহ-সুপার, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান অগ্রগতি সভায় উপস্থাপন করা হয়। কমিটি জানতে পারে যে, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধরনের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে স্থায়ী কমিটি জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের ভেতরেই। নির্ধারিত সময়ে মুদ্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্থায়ী কমিটিকে অবহিত করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এসব অনিয়ম তদন্তে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিজস্ব উদ্যোগে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালানোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। এ সময় নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামোর সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন এবং ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের নিয়ে এনটিআরসিএ-র নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। এসব পর্যালোচনা শেষে ১-১২তম নিবন্ধনকারীদের নির্বাহী আদেশে নিয়োগের জোর সুপারিশ জানায় কমিটি।
কারিগরি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জরুরি ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় সংসদীয় কমিটি। এছাড়া চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সভায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এনটিআরসিএ, এনসিটিবির শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন