প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্প্যানিশ এনক্লেভ সেউতায় (Ceuta), যা উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত, সেখানে মানবিক সংকট একটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে ইউরোপে প্রবেশের আশায় আসা হাজার হাজার অভিবাসী বর্তমানে সেখানে চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গত জুলাইয়ের শেষের দিকে, মরক্কো থেকে প্রায় ৭০ হাজার অভিবাসী সমুদ্র সাঁতরে ও সীমান্ত পার হয়ে সেউতায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে এখনও প্রায় ৬,০০০ থেকে ১৩,০০০ অভিবাসী আটকা পড়ে আছেন। সরকার প্রায় ৫,০০০ নারী ও শিশুকে অস্থায়ী আশ্রয় দিলেও, বাকি হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অনেক অভিবাসী গাছের ডালপালা ও কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি অস্থায়ী তাবুতে বসবাস করছেন। সেখানে পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, খাবার এবং চিকিৎসার মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের পর দিন ত্রাণ কেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সংকটের পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। হিউম্যানিটেরিয়ান সংস্থা ‘মিশন লাইফলাইন ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিনিধি নোলে বাউয়ের মতে, সেখানে স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে এবং রাতে সহিংসতার ঝুঁকি বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে কয়েকজন অভিবাসী অভিযোগ করেছেন যে, ইউনিফর্ম পরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের মারধর করেছে। ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট আনিস ফাদি জানান, "আমরা অপরাধী নই, আমরা শুধু কাজের সুযোগ চাই।"
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা মানবাধিকার বজায় রেখে কাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িক আবাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছে। যেসব অভিবাসীর আশ্রয় বা আইনি বৈধতা পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে স্পেন সরকার।
এদিকে, স্থানীয় জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় সেউতার স্থানীয় প্রশাসন ও স্প্যানিশ সরকার চরম চাপের সম্মুখীন হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন