প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান বেরিবাঁধসংলগ্ন চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের কারণে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের একটি টিম খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই এলাকায় দুটি বস্তি ছিল এবং আনুমানিক ১৭ কাঠা জমি নিয়ে একাধিক পক্ষের বিরোধ রয়েছে। একটি পক্ষ দাবি করছে যে হামলা ও ভাঙচুর হওয়া জমিটি তাদের।
ওসি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আলম নামের এক প্রবাসী দেশের বাইরে রয়েছেন। জমিটি তার দখলে ছিল। সেখানে থাকা দুটি বস্তির একটি তিনি আগেই দখলমুক্ত করেন। এরপর জমিটি খালি ছিল। অন্যপক্ষ খালি জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের ফলস্বরূপ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
তবে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত নয়। একাধিক পক্ষের জমি ওই এলাকায় রয়েছে। জমি বা দখলসংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ পদক্ষেপ নিতে পারে না। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনৈক আলম ওই জমির দখলে ছিলেন। ঘটনার সময় জনি ও রেজাউলের নেতৃত্বে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক বেআইনিভাবে জমিতে প্রবেশ করে টিনের বেড়া ভেঙে ফেলে। পরে তারা ভেতরে প্রবেশ করে অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং সীমানায় নতুন করে টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করে। উভয়পক্ষই ওই জমির মালিকানা নিয়ে নিজেদের কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করছে।
এদিকে স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত আলম হোসেনের জমি দখল করতে ভোলা জেলা চরফ্যাশন উপজেলার যুবদলের সভাপতি শহিদুল আলম প্রিন্স এবং ভোলা দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম খন্দকার আসেন। তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মালিক সাঈদ ইকবাল মাহমুদ টিটু, মো. শহিদুল আলম প্রিন্স, কাজী মনজুর হোসেন ও রেজাউল করিম খন্দকার। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা জমি দখলে নিতে আসেন বলে জানা যায়।
এ সময় জমির একপাশে থাকা আলম হোসেনের দোতলা অফিসের ভেতরে থাকা সব মালামাল বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা লুট করে নিয়ে যায় বলে স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে মোহাম্মদপুর থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বিরোধের সমাধানের লক্ষ্যে উভয়পক্ষকে তাদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন