প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, সামনে হজের বিমান ভাড়া আরও কমবে। তিনি বলেছেন, আপনারা সবাই জানেন বিগত সময়ে এই হজের বিমান ভাড়া নিয়ে একটা সিন্ডিকেট হয়েছিল। কিন্তু আমাদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেই সিন্ডিকেটটা ভেঙে দিয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরাহ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ মেলার আয়োজন করেছে বেসরকারি হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা পবিত্র হজ নিয়ে আলাপ করতে এসেছি। হজ ও ওমরাহ— তা আমরা শুধুমাত্র সফর হিসেবে দেখি না। বরং এটি ঈমানের আহ্বান, আত্মশুদ্ধির যাত্রা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মহান সুযোগ। তাই এই পবিত্র যাত্রাকে সহজ, নিরাপদ ও সেবামুখী করার জন্য সবাই মিলে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, এজন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকে শুধুমাত্র একটাই কথা বলেছেন যে- আমার হজ যাত্রীদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, তারা যেন সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ এবং সেবামূলক হজের সুবিধা পায়। এই কথাটা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশ মোতাবেকই আমরা কাজ করেছি।
‘যেমন ২০২৪-এ হজে বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। ২০২৬-এ আমরা ১২ হাজার কমিয়ে তা নির্ধারণ করি। এখন ২০২৭-এ যখন আবার সেই হজের বিষয় আসলো, তখন প্রধানমন্ত্রী আবার আমাদের ডেকে নিয়ে বললেন- আপনারা চেষ্টা করুন, এটা কোনো আমি লাভ-লোকসান দেখবো না, আমি দেখবো যে আমার জনগণের কী ইচ্ছা। সবার একটা স্বপ্ন থাকে যে একবার হলেও আমি হজ করবো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেকই আমরা তখন ২৪ হাজার ৮০০ টাকা কমিয়ে বিমান ভাড়া এক লাখ ৩০ হাজার টাকা করেছি।’
আফরোজা খানম বলেন, আর টোটাল মিলিয়ে যদি বলি, পাঁচ মাসের— এই পাঁচ মাসে বর্তমান সরকারের টোটাল বিমান ভাড়া কমিয়েছে ৩৬ হাজার ৮৩০ টাকা। আমাদের ইচ্ছা আছে যে আমরা যদি সৌদি সরকারের সঙ্গে কিছু আলাপ-আলোচনা করে যে ট্যাক্সটা দেওয়া হয় সেটা কিছুটা যদি আমরা কমাতে পারি, সেটাও আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে। তাহলে ভাড়াটা আরও কমে আসবে। আমাদের সে চেষ্টা থাকবে।
হাজিদের খাবার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, এটা আসলে কতটুক ভালো হলো যে সৌদি সরকার আপনাদের খাওয়ার দায়িত্বটা নিয়েছে। কিন্তু এই খাবারটা তো আমরা বাঙালি, আমাদের ওইখানে বাঙালি খাবারটার প্রতি কিন্তু বিশেষ করে যখন মানুষ দূরযাত্রায় যায়, তখন সবাই চায় যে ভাত-মাছ এইটা খাওয়ার জন্য। কিন্তু সৌদির খাবার তো সবসময় থাকবে মাংস, নয়তো একটি পোলাওর মতন খাবার। তো এইটা কতটুক আমার যারা যাবে, হজযাত্রী যারা যাবে, তাদের জন্য কতটুক সুবিধাজনক হবে, আমি বুঝতে পারছি না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। এ প্রোগ্রামে হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়জার সোহেল আহমেদ, হাবের সাবেক সভাপতি ইবরাহিম বাহার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর সাবেক সভাপতি কাজী মফিজুর রহমান, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- টোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন হাবের ইসি সদস্য মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন